প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ভাণ্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শুনছেন কর্মকর্তারা সমকাল
ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৫৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে নানা প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিদ্যালয়টির শিক্ষকরাও।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থান নেয়। পরে তারা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসানের কাছে তাদের দাবি তুলে ধরে। ইউএনও শিক্ষার্থীদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
পরে ঘটনাটি অধিকতর নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুবেদ সরকারকে আহ্বায়ক এবং যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ আজমল হোসেনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন– উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমিক সুপারভাইজার। কমিটিকে আগামী চার কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও হাসিবুল হাসান জানান, ইতোমধ্যে দুই দফা সরেজমিন বিদ্যালয় পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত চালিয়েছেন এবং উত্থাপিত বেশ কিছু অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। অধিকতর দতন্তে কমিটি হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক এস এম মজিবুর রহমান বলেন, ‘আমি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নই। একটি স্বার্থান্বেষী চক্র ছাত্রীদের উস্কানি দিয়ে এসব করাচ্ছে।’
বিদ্যালয়ে শিক্ষক অবরুদ্ধ
এদিকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শাহ আলম নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার বড় বায়সা এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।
শিক্ষার্থীর স্বজনের অভিযোগ, সোমবার ক্লাস চলাকালে শাহ আলম ওই ছাত্রীকে চিরকুট লিখে বিদ্যালয়ের ওয়াশরুমে যেতে বলেন। মেয়েটি সেখানে গেলে তিনি যৌন নিপীড়নমূলক আচরণ করেন। শিশুটি কৌশলে বেরিয়ে বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। মঙ্গলবার সকালে শাহ আলম বিদ্যালয়ে গেলে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী তাঁকে মারধর করে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শিক্ষা কর্মকর্তা পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। গ্রামবাসীকে শান্ত করে বিকেলে শাহ আলমকে আটক করা হয়। কালীগঞ্জ থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, তাঁকে শিশুর মায়ের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
- বিষয় :
- দাবি