ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুবককে হত্যার অভিযোগ

মাদক নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালকরাও পলাতক

মাদক নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালকরাও পলাতক
×

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রয়াস মাদক নিরাময় কেন্দ্রে নির্যাতনে এক যুবকের মৃত্যুর পর আতঙ্কে ওই কেন্দ্র থেকে ৪০ জন রোগী পালিয়ে যান

 নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া 

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৫৫ | আপডেট: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৩০

| প্রিন্ট সংস্করণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রয়াস মাদক নিরাময় কেন্দ্রে নির্যাতনে ফোরকান নামে এক যুবকের মৃত্যুর পর আতঙ্কে ওই কেন্দ্র থেকে ৪০ জন রোগী পালিয়ে যান। ঘটনার পর নিরাময় কেন্দ্রটির পরিচালকরাও গা ঢাকা দিয়েছেন। পালিয়ে যাওয়া রোগীদের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেনি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় ফোরকানের পরিবার আদালতে হত্যা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

অনুমোদিত এই নিরাময় কেন্দ্র থেকে পালিয়ে আসা একাধিক রোগী জানান, সেখানে রোগীদের ওপর নিয়মিত নির্যাতন চালানো হতো। কেন্দ্রটিতে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স কিংবা সেবক ছিল না। এমনকি রোগীদের দিয়ে পরিচ্ছন্নতার কাজ করানো হতো। 

ফোরকানের মৃত্যুর পর পালিয়ে আসা নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জের বাসিন্দা সামজিদ রহমান বলেন, ‘ফোরকানকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর ও নির্যাতন করে মেঝেতে ফেলে রাখা হয়েছিল। তাঁকে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। বিনা চিকিৎসায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। না পালালে আমাদের ওপরও একইভাবে নির্যাতন চালানো হতো।’ 

ফোরকানের ভগ্নিপতি ইমন হোসেনের অভিযোগ, ঘটনার পর জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসাধীন অন্য রোগীদের বক্তব্য রেকর্ড করেন এবং এটি স্বাভাবিক মৃত্যু বলে প্রচার করার জন্য তাদের প্রভাবিত করেন। কেন্দ্রটির মালিকপক্ষ স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশের কাছে না গিয়ে তারা সরাসরি আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বৃহস্পতিবার কেন্দ্রটি পরিদর্শনে গিয়েছিলাম, এর আগে যাইনি। জানালা ভাঙা থাকায় বর্তমানে তাদের এক কর্মকর্তা কেন্দ্রটি পাহারা দিচ্ছেন। তদন্তে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের অনিয়ম প্রমাণিত হলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। ফোরকানের মৃত্যুর বিচার পুলিশি তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে।’ 
অন্যদিকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক প্রমোদ বর্মণ দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের মূল মালিক ইকরামুল হক রুবেল। ঘটনার পর ভাঙচুর ও রোগী পালিয়ে যাওয়ার কারণে মালিকপক্ষের কেউ কেন্দ্রে নেই। পালিয়ে যাওয়া রোগীর তথ্য তাদের কাছে নেই। 

মূল মালিক রুবেলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি শহীদুল ইসলাম বলেন, নিরাময় কেন্দ্রে তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো মামলা বা অভিযোগ দেওয়া হয়নি। 

প্রসঙ্গত, ছয় মাস আগে দেশে ফেরার পর কাতারপ্রবাসী ফোরকান মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে ১৪ আগস্ট তাঁকে প্রয়াসে ভর্তি করা হয়। পরে গত মঙ্গলবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

আরও পড়ুন

×