ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরিশালের বিএম কলেজ

নতুন উপাধ্যক্ষকে যোগদানে বাধা, হাতাহাতি

নতুন উপাধ্যক্ষকে যোগদানে বাধা, হাতাহাতি
×

ফাইল ছবি

বরিশাল ব্যুরো

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ২১:১০

নন-ক্যাডার শিক্ষকদের সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করায় বরিশালের বিসিএস (সাধারণ) শিক্ষকদের মধ্যে আগে থেকেই ক্ষোভ বিরাজ করছিল। বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে রোববার সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। কলেজটির নতুন উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ নন-ক্যাডার হওয়ায় তাঁকে যোগ দিতে দেননি বিসিএস শিক্ষকরা।

জানা গেছে, বিএম কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান আবুল কালাম আজাদকে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, বিসিএস ক্যাডার শিক্ষকদের দাবি, তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ, নন-ক্যাডার অধ্যাপককে উপাধ্যক্ষ পদে মানবেন না তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অধ্যাপক আবুল কালাম উপাধ্যক্ষ পদে যোগ দিতে রোববার সকাল ৯টার দিকে প্রশাসন ভবনের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান। বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী তাঁর সঙ্গে ছিলেন। এ সময় কোনো শিক্ষক ছিলেন না। খবর পেয়ে বিসিএস শিক্ষকরা কলেজের কিছু ছাত্রদলকর্মী নিয়ে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে অবস্থান নেন। কলেজ শিক্ষার্থীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একাধিকবার দুপক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি ঘোলাটে হবে বুঝতে পেরে অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম তাঁর দপ্তরে অনুপস্থিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত যোগ না দিয়েই ফিরে যান আবুল কালাম। এর আগে বৃহস্পতিবারও তিনি যোগদানের চেষ্টা করে বাধার মুখে পড়েছিলেন।

আন্দোলনকারী বিসিএস ক্যাডারের সহকারী অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম বলেন, আমরা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং ক্যাডার মর্যাদা রক্ষায় ২০১৭ সাল থেকে ‘নো বিসিএস, নো ক্যাডার’ ইস্যুতে আন্দোলন করে আসছি। বিএম কলেজে বিসিএস ক্যাডারের ১৮০ জন শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে ১০ শতাংশ কোটায় আত্মীকৃত ওই শিক্ষককে কেন উপাধ্যক্ষ করতে হবে? ক্যাডারভুক্ত জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের বঞ্চিত করে নন-ক্যাডার আবুল কালাম আজাদকে আমরা মানবো না।

ছাত্রদলকর্মী আকবর মুবিন অভিযোগ করেন, অধ্যাপক আবুল কালাম ১০ শতাংশ কোটায় আসা নন-ক্যাডার শিক্ষক। তিনি আওয়ামী লীগ আমলে নানা সুবিধা ভোগ করেছেন। তাঁকে উপাধ্যক্ষ পদায়ন কলেজকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

তবে নতুন উপাধ্যক্ষের অনুসারী কলেজের ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মো. বাইজিদ হোসেনের ভাষ্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমেই তিনি নিয়োগ পেয়েছেন। আমরা তাঁর পক্ষে আছি।

চেষ্টা করেও অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য জানতে পারেনি সমকাল। অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম জানান, উপাধ্যক্ষ পদে পদায়ন পাওয়া অধ্যাপক আবুল কালাম রোববারও যোগদান করতে পারেননি। তাঁর ব্যাপারে কলেজের বিসিএস শিক্ষকদের আপত্তি আছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯০ সালে সারাদেশে ১৮টি মহিলা কলেজ জাতীয়করণ হয়। এসব কলেজের জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের বর্তমানে ২৪ জন বরিশাল বিভাগে কর্মরত। অন্যদিকে, বিসিএস শিক্ষকদের দাবি, তারা সংখ্যায় সহস্রাধিক হওয়ার পরও পদোন্নতিবঞ্চিত হচ্ছেন। এর আগে ২২ জুলাই নগরের সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে নন-ক্যাডার মেহবুবা আলম ও সরকারি মহিলা কলেজে নন-ক্যাডার আব্দুস সালাম হাওলাদারকে উপাধ্যক্ষ করা হলে ক্যাডার শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ হন। এর জেরে বিএম কলেজে নতুন উপাধ্যক্ষকে ঠেকাতে তারা একাট্টা হয়েছেন।

আরও পড়ুন

×