নুসরাত হত্যা মামলা
নিরাপত্তা উদ্বেগে পরিবারের সদস্যরা, বাড়িতে অতিরিক্ত পুলিশ
ফেনীর সোনাগাজীতে নুসরাত জাহান রাফির বাড়িতে পুলিশ সদস্য মোতায়েন (ছবি-দিলদার হোসাইন স্বপন)
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ | ১২:২২ | আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:৪০
ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) এবং আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের রায় আজ ঘোষণা করা হবে হাইকোর্ট বেঞ্চে। আলোচিত ওই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবরে সোনাগাজী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রায়কে ঘিরে ছেলেদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন মা শিরিন আক্তার। একদিকে যেমন মেয়ের ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় উন্মুখ, অন্যদিকে বেঁচে থাকা বাকি সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাঁর।
অতীতে প্রভাবশালী মহলের নানা হুমকি এবং মামলার বাদী ও সাক্ষী হিসেবে পরিবারের তরুণ সদস্যদের ভূমিকা থাকায় সবসময় এক ধরনের অদৃশ্য ভয়ের মধ্যে থাকতে হয় তাঁদের। অপরাধীদের সহযোগীরা যেকোনো সময় প্রতিশোধ নিতে পারে—এমন আশঙ্কায় ছেলেদের চলাফেরা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। রাষ্ট্রের কাছে পরিবারের পক্ষ থেকে স্থায়ী ও জোরালো নিরাপত্তার দাবি জানানো হয়েছে।
শিরিন আক্তার বলেন, যেভাবে নিম্ন আদালতে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে, উচ্চ আদালতেও সেই ন্যায়বিচার বজায় থাকবে। মেয়ে হত্যার সঠিক বিচার আমরা পাব। দীর্ঘ বছর ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের এই পর্যায়ে এসে আদালতের আস্থা প্রকাশ করেন তিনি।
আরও সাত পুলিশ সদস্য মোতায়েন
এদিকে নুসরাত হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তাঁদের বাড়িতে দুজন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত ছিলেন। রোববার থেকে সেখানে আরও সাতজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসিম বলেন, মামলার বাদী ও নিহত নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষার জন্য বাড়িতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ১৬ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী ওই বছরই মামলার রায়সহ সব নথিপত্র ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে এসে পৌঁছায়। পাশাপাশি আসামিরাও নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক প্রস্তুত করার পর প্রধান বিচারপতির নির্দেশে গঠিত বিশেষ বেঞ্চে মামলাটির দীর্ঘ শুনানি সম্পন্ন হয়।

২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তোলার পর নুসরাতকে তার পরিবার মামলা করতে থানায় পাঠায়। পরে ওই বছরের ৬ এপ্রিল পরীক্ষার হল থেকে কৌশলে তাকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাত মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই ঘটনার দীর্ঘ সাত বছর পর উচ্চ আদালত এবার এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছেন।
সোনাগাজী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যাক্ষ মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার রায়ে আমি ন্যায়বিচার কামনা করছি।
- বিষয় :
- ফেনী
- নুসরাত হত্যা
- আদালত
- হত্যা মামলা