ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

মাদক নিরাময়কেন্দ্রে যুবকের মৃত্যুর ৬ দিন পর হত্যা মামলা

মাদক নিরাময়কেন্দ্রে যুবকের মৃত্যুর ৬ দিন পর হত্যা মামলা
×

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৫:০৮

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রয়াস নামে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন যুবককে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। মামলায় প্রয়াসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহীসহ সাতজনের নামোল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে নিহত যুবকের বাবা আব্দুর রশীদ বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফনান সুমির আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।

বিচারক আফনান সুমি এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা ও সাধারণ ডায়েরি হয়েছে কিনা যাচাইপূর্বক তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। গত ১৮ আগস্ট রাতে জেলা শহরের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন তিনতলা ভবনে প্রয়াস মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন যুবক মো. ফোরকানের মৃত্যু হয়।

মামলায় প্রয়াসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী পরিচালক মো. ইকরামুল হক রুবেলকে প্রধান আসামি করা হয়। এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন– মাদক নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক নরসিংদীর প্রমোদ কুমার বর্মন, সহযোগী কান্দিপাড়া এলাকার রিয়াদ আহমেদ রকসি, সাথি, আরিফ, সাকিব ও শাহরিয়ার। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও চার-পাঁচজনকে।

জেলার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর গ্রামের আব্দুর রশীদের ছেলে মো. ফোরকান মিয়া গত ছয় মাস আগে কাতার থেকে বাড়িতে আসেন। দেশে আসার দুই মাস পর ফোরকান মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, তিন মাসের জন্য ৭০ হাজার টাকায় তাঁকে গত ১২ আগস্ট নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। ভর্তির সময় ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি টাকা এক মাসের মধ্যে দেওয়ার কথা ছিল। ভর্তির পর থেকেই তাঁর ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন করা হতো।

ঘটনার দিন ১৮ আগস্ট ফোরকানকে নির্যাতন করেন কেন্দ্রের পরিচালকরা। তাঁকে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে ফ্লোরে ফেলে রাখা হয়। এক পর্যায়ে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পরদিন স্থানীয় লোকজন প্রয়াসে হামলা ও ভাঙচুর করে। ওইদিন দুপুরে কেন্দ্রের জানালা ভেঙে পাশের ভবনের ছাদে লাফিয়ে পড়ে নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ৪০ রোগী পালিয়ে যায়। এ সময় নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালকরাও ভয়ে পালিয়ে যান।

আরও পড়ুন

×