ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এমপি আয়নুল হকের গাড়িবহরে হামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

এমপি আয়নুল হকের গাড়িবহরে হামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
×

গ্রেপ্তার তমাল সরকার

​সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ১১:৪৫ | আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ১১:৪৯

​সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য আয়নুল হকের গাড়িবহরে হামলা-ভাঙচুরের মামলায় প্রধান আসামি তমাল সরকারকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তমাল ওই এলাকার মৃত সিরাজ সরকারের ছেলে। রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান তমাল গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় ধানগড়া বাজারে প্রস্তাবিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) জায়গা নির্ধারণ সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন সংসদ সদস্য আয়নুল হক। সভা শেষে ফেরার পথে তাঁর গাড়িবহরে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সংসদ সদস্য অক্ষত থাকলেও তাঁর গাড়ির পেছনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।  

এদিকে, স্থানীয় বিএনপি নেতা শামীমুল হাসান বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩০-৪০ জনকে আসামি করে ঘটনার রাতেই রায়গঞ্জ থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। 

এর আগে এ মামলায় রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মুক্তাদির ও স্থানীয় ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালত তাদের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। মামলার অপর চার আসামি বর্তমানে আগাম জামিনে থাকলেও বাকিরা পলাতক।

​অন্যদিকে, পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে জেলা বিএনপির সহসভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানাকে আহ্বায়ক ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভিপি শামীম খানকে সদস্যসচিব করে ৯ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি। 

প্রসঙ্গত, ওই দিন সংসদ সদস্য আয়নুল হকের গাড়িবহরে হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভও হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মতবিনিময় সভা শেষে সংসদ সদস্য আয়নুল হক গাড়িবহর নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তার গাড়িবহরে হামলা ও একটি গাড়ির পেছনের কাচ ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হক বলেন, ‘নির্বাচনে পরাজিত একটি রাজনৈতিক পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে। তিনি নিজে হামলাকারীদের দেখেছেন দাবি করে বলেন, হামলায় তার গাড়ির পেছনের কাচ সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে।’

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক লাইভ বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীদের হাতে অস্ত্র ছিল বলেও তিনি দাবি করেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় সংসদ সদস্যের সঙ্গে থাকা পরিবেশ ও জলবায়ু কর্মী ফয়সাল বিশ্বাস অভিযোগ করেন, ‘জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা হামলায় জড়িত ছিলেন।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নেতারা। 

সংশ্লিষ্ট খবর

আরও পড়ুন

×