ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বন্ধুপ্রতিম দেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখা ভারতের দায়িত্ব: পানিসম্পদ মন্ত্রী

বন্ধুপ্রতিম দেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখা ভারতের দায়িত্ব: পানিসম্পদ মন্ত্রী
×

ছবি-সংগৃহীত

ফেনী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:৫৪

ভারত থেকে বাংলাদেশে পানি আসার বিষয়ে সরকার সজাগ ও সতর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী। তিনি বলেছেন, প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক কতটা ইতিবাচক হওয়া উচিত, ভারতকেও তা বিবেচনা করতে হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের মুহুরী ব্রিজ এলাকায় মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারত কোনো ধরনের সতর্কতা ছাড়া বাংলাদেশের দিকে পানি ছেড়ে দিলে সরকার কীভাবে বিষয়টি দেখছে, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে পানি আসা দীর্ঘদিনের বিষয়। এ নিয়ে সরকার সজাগ রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ভারতকেও চিন্তা করতে হবে, বাংলাদেশ তাদের প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম দেশ। বন্ধুত্বের সম্পর্ক কতটা ইতিবাচক হওয়া উচিত, সেটিও ভারতকে বিবেচনা করতে হবে। আমরা আশা করছি, ভারত এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সজাগ থাকবে এবং বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখবে।’

কোনো ধরনের আগ্রাসনের শিকার যেন দেশের মানুষ না হয়, সে বিষয়ে সরকার আরও সতর্ক থাকবে জানিয়ে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশবাসীও সজাগ রয়েছে।’

দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ থাকবে

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর দেশে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের প্রবণতা ছিল। এখন জনগণ সরকারকে নির্বাচিত করেছে এবং সরকার দায়িত্ব নিয়ে দেশ পরিচালনা করছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ থাকবে।

তিনি বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালীর সন্তান হিসেবে এ প্রকল্পসহ দেশের সব প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করা তাঁর দায়িত্ব। কোনো প্রভাবশালীর প্রভাব বা অনিয়মের কারণে যেন প্রকল্পের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার কথাও জানান তিনি।

২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্প শেষ

মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় জমি অধিগ্রহণের কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে জানান পানিসম্পদ মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রয়োজন হলে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ দিয়েই কাজ করা হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, বাঁধ ভাঙন ও বন্যায় মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, আগামী মাসের যেকোনো সময় অথবা মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী ফেনীতে এসে প্রকল্পটির কাজ উদ্বোধন করবেন। এ সময় তিনি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

ব্যয় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা

গত ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে।

পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতে বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ এখনো শুরু হয়নি।

পরিদর্শনকালে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এমএ খালেক, জেলা প্রশাসক মনিরা হক, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ বাহার ও সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×