খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:০১
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজবাড়ীর কালুখালীতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৫ টাকা কেজি দরের চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আবু তালেব নামের এক ডিলারের বিরুদ্ধে। ডিলার ৩০ কেজির জায়গায় চার থেকে পাঁচ কেজি চাল কম দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন কার্ডধারী গ্রাহকরা। গত সোমবার এ ঘটনা ঘটে। এ-সংক্রান্ত একাধিক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
আবু তালেব কালুখালী উপজেলার বাংলাদেশ হাটবাজার এলাকার ডিলার। তবে ওজনে চাল কম দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বাজারের একটি স্থানে ডিজিটাল ওজনযন্ত্রে চাল মাপা হচ্ছে। প্রথম বস্তায় আড়াই কেজি, একটিতে তিন কেজি, একটিতে চার কেজি, একটিতে সাত কেজি কম। আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একজন নারী বলছেন তাঁর কাছ থেকে কার্ড নিয়ে চাল দেওয়ার পর সেটি ঢেলে রাখেন ডিলারের লোকজন। তাঁকে জানানো হয়, এই কার্ডে চাল দেওয়া যাবে না। কেন দেওয়া যাবে না জানতে চাইলে তাঁকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এই ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে ডিলারকে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, ‘চাল কেন কম দেওয়া হচ্ছে। মানুষের হক কেন মেরে খাওয়া হচ্ছে। এখানে চাল মাপার কোনো মিটার নেই কেন।’
উপজেলার হামরাট গ্রামের বাসিন্দা সুরাপ আলী, জুমারত, বাবলুসহ অনেকেই জানান, ডিলারের কাছ থেকে চাল নিয়ে বাইরে গিয়ে মেপে তারা চালের ওজনে কম পেয়েছেন।
ডিলার আবু তালেবের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘চাল কম দেওয়ার সুযোগ নেই। ওজনযন্ত্র পাশে থাকে। বালতিতে ভরে তারা চাল দেন। ভিড় বেশি হলে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে ৩০ কেজির
জায়গায় ২৯ কেজি হতে পারে। এর চেয়ে কম হবে না।’ কার্ডধারী নারীর চাল ফেরত নেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, ‘মাস্টাররোলে ওই নারীর নাম নেই।’
এ বিষয়ে ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারী রিপন বিশ্বাস জানান, তিনি সেখানে বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত ছিলেন। এরপরে হয়তো ঘটনা ঘটতে পারে। কিছু মানুষ বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করেছে। এ বিষয়ে তাঁর কাছে কেউ অভিযোগ করেননি।
কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রেজাউল করিম জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি