ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ জনের মরদেহ নওগাঁয় পৌঁছেছে

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ জনের মরদেহ নওগাঁয় পৌঁছেছে
×

ছবি- সমকাল

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৩২

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাতজনের মরদেহ নওগাঁয় এসে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো আত্রাই উপজেলায় পৌঁছায়। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৪০ ফ্লাইটে মরদেহগুলো সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে আসে।

মরদেহগুলো আত্রাইয়ে পৌঁছানোর পর একনজর দেখতে রাত থেকেই আত্রাই থানা কম্পাউন্ডে ভিড় করেন স্বজন ও স্থানীয়রা। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শুক্রবার সকাল ১০টায় আত্রাই মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে সাতজনের একসঙ্গে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদ-এর কাউন্সেলর মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নিহতদের পরিচয় শনাক্তের তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। সৌদি কর্তৃপক্ষ ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে নয়জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে। ইতোমধ্যে তাঁদের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।

সৌদি দূতাবাসের পাঠানো তালিকায় নওগাঁর সাতজন হলেন—আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামাণিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী, বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে প্রশাসনের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছিল। প্রশাসনের সমন্বয়ে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে মরদেহগুলো বিনা খরচে আনা হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ইউএনও আরও বলেন, সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শুরুতে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও বর্তমানে আত্রাই উপজেলার ১১ জন এবং নওগাঁ সদর উপজেলার একজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। বাকি মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ইউএনও জানান, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেই সাতজনের মরদেহের একত্রে জানাজার আয়োজন করা হয়েছে। জানাজা শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×