ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুবদলের দুই উপজেলা কমিটি নিয়ে অসন্তোষ

যুবদলের দুই উপজেলা  কমিটি নিয়ে অসন্তোষ
×

জাতীয়বাতাবাদী যুবদলের নবগঠিত উপজেলা কমিটি প্রত্যাখ্যান করে আয়োজিত ঝাড়ুমিছিলে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ শহরে সমকাল

পটুয়াখালী ও দুমকী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৩৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ ও দুমকী উপজেলার নবগঠিত কমিটি নিয়ে পদবঞ্চিত নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা নতুন কমিটি বাতিলের দাবিতে নিজ নিজ এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন। এ নিয়ে দুই উপজেলায় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। 
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত বুধবার দুপুরে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সই করা বিজ্ঞপ্তিতে মির্জাগঞ্জ উপজেলায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ৭ জন এবং দুমকী উপজেলায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে কমিটির ঘোষণা দেওয়া হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে পদবঞ্চিত নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জেলা বিএনপির রাজনীতিতে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী এমপির অনুসারীদের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে অন্য পক্ষের। সেই পক্ষে আছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটনের অনুসারীরা। দুই উপজেলায় যুবদলের 
নতুন কমিটিতে পদ পেয়েছেন আলতাফ হোসেন চৌধুরীর অনুসারীরা। 
নতুন কমিটি প্রত্যাখ্যান করে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মির্জাগঞ্জে ঝাড়ু মিছিল বের করেন পদবঞ্চিত অংশের নেতাকর্মীরা। এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সুবিদখালী অডিটোরিয়ামের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। শহর প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান সুজন হাওলাদার, মো. শাহীন ফরাজী, মো. বাবুল মুন্সী প্রমুখ।   

যুবদলের এ কমিটিকে ‘পকেট কমিটি’ আখ্যা দিয়ে মো. মিজানুর রহমান সুজন হাওলাদারের অভিযোগ, ৫ আগস্টের আগে এদের কোনো ভূমিকা ছিল না। যারা কোনোদিন ছাত্রদল-যুবদল করেনি, তারাও এ কমিটিতে আছে। বিগত দিনের ফ্যাসিস্টদের নিয়ে এই কমিটি করা হয়েছে। তারা এ কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করছেন।
উপজেলা যুবদলের সদ্য ঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘জেলা বিএনপির উস্কানিতে কতিপয় লোক এসব মিছিল করেছেন। যারা মিছিল করেছেন, তারা যুবদলের কেউ নন। তারা চাঁদাবাজ। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।’
কমিটি প্রত্যাখ্যান করে দুমকীতেও ঝাড়ু মিছিল করেছেন পদবঞ্চিত নেতারা। গত বুধবার বিকেলে দুমকী শহরের নতুন বাজার থেকে মিছিল বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে। সেখানে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন হাওলাদার ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন সম্ভু প্রমুখ। 

মো. জসিম উদ্দিন হাওলাদার এ বিষয়ে বলেন, ‘এ কমিটি কারা অনুমতি দিয়েছেন, আমরা জানি না। হয়তো টাকার বিনিময়ে এ কমিটির অনুমোদন হয়েছে। অন্যথায় এ কমিটি দুমকীতে হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ কমিটিতে যাদের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে, তারা দলের কেউ না। তাই আমরা ঘৃণাভরে এ কমিটি প্রত্যাখ্যান করছি।’
এদিকে বুধবার সন্ধ্যায় দুমকীতে আনন্দ মিছিল করেন নতুন কমিটির নেতারা। তারা মোটরসাইকেল বহর নিয়ে লেবুখালী থেকে শহরে ঢুকতে চাইলে প্রশাসন বাধা দেয়। তারা সেখান থেকে ফিরে লেবুখালীর পাগলায় আনন্দ মিছিল করেন। এ মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন সদ্য ঘোষিত কমিটির সভাপতি মো. জাকির আলম মিলন ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদ ইসলাম রুবেল।  
এ বিষয়ে মো. জাকির আলম মিলন ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদ ইসলাম রুবেলের ভাষ্য, একটি বড় দল বা সংগঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যোগ্য অনেকেই থাকেন। এর মধ্য থেকেই সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়। আর এতেই যে অন্য নেতৃবৃন্দ পদবঞ্চিত হয়ে যাবেন, বিষয়টি এমন নয়। তারা সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগঠনকে বেগবান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে চান। 
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন বলেন, ‘জেলার দুই উপজেলায় যুবদলের কমিটি ঘোষণার বিষয়ে জেলা বিএনপি কিছুই জানে না। দুমকীতে যে দুজনকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে, তাদের গত ১৬-১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে দেখিনি। মির্জাগঞ্জের কমিটিতে কিছু ত্রুটি রয়েছে। জেলা বিএনপির সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে কমিটি করলে আজকের এ পরিস্থিতি হতো না।’
 

আরও পড়ুন

×