ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিপন্ন বাঘাইড় ধরে প্রকাশ্যে বিক্রি, জানে না প্রশাসন

বিপন্ন বাঘাইড় ধরে প্রকাশ্যে বিক্রি, জানে না প্রশাসন
×

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৩৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

মানিকগঞ্জের যমুনা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়ে বিপন্ন প্রজাতির ৪১ কেজি ওজনের একটি বাঘাইড় মাছ। পরে মাছটি দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া চর বাজারে নিয়ে ডাকের মাধ্যমে ৫৩ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। অথচ মাছটি বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর আওতায় সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত। দেশের নদী থেকে বাঘাইড়ের বিলুপ্তি ঠেকাতে বাংলাদেশ বন অধিদপ্তর এই মাছ ধরা ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার এত বড় একটি বাঘাইড় বিক্রি হলেও এ বিষয়ে কিছু জানে না প্রশাসন।

গতকাল ভোরে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া চর এলাকার যমুনা নদীতে কয়েকজন জেলের জালে মাছটি ধরা পড়ে। স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী ও হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, আসিফ মিয়া, ওহাব মোল্লা ও মতিন শেখ যমুনা নদীতে মাছ ধরছিলেন। ভোরে তাদের জালে বাঘাইড়টি ধরা পড়ে। পরে বাজারে নিয়ে এলে মাছটি দেখতে ভিড় করেন স্থানীয়রা। বাঘুটিয়া চর এলাকার সৌদি প্রবাসী জাকির হোসাইন মাছটি কিনে নেন। প্রতি কেজি ১৩০০ টাকা হিসাবে ৪১ কেজি মাছটির দাম পড়ে ৫৩ হাজার ৩০০ টাকা। তবে স্থানীয়দের হিসাবে মাছটি ৫৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিপন্ন এই মাছের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নদীতে শিকার বন্ধে কার্যকর নজরদারি না থাকায় জেলেদের জালে নিয়মিতই এমন মাছ ধরা পড়ছে। ধরা পড়ার পর সেগুলো বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হয়।

এদিকে বিপন্ন প্রজাতির একটি মাছ প্রকাশ্যে বাজারে বিক্রি হলেও বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না জেলা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তারা। দৌলতপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুরাইয়া আক্তার তন্বী বলেন, বন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বাঘাইড় মাছ বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাঘাইড় মাছ ধরা পড়ার বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই। মানিকগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, বাঘাইড়কে বন অধিদপ্তর বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ মাছ ধরা নিষিদ্ধ। মৎস্য বিভাগ থেকেও এ ধরনের মাছ না ধরতে জেলেদের বলা হয়। 
এ ব্যাপারে জানতে মানিকগঞ্জ জেলার বন সংরক্ষণ কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কাজী মাহিনুর রহমানকে গতকাল রাতে মোবাইল ফোন কল করে এবং এসএমএস দিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যাযনি।

আরও পড়ুন

×