সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: ৩ দিনের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতার দাবি এলাকাবাসীর
নগরীর শাহী ঈদগাহ এলাকায় বৃহত্তর শাহী ঈদগাহবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন করা হয়। ছবি: সমকাল
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:১০ | আপডেট: ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:১৫
সিলেট নগরীর রায়নগর রাজবাড়ি মিতালী আবাসিক এলাকায় চাঞ্চল্যকর তিন খুনের ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে এবার মাঠে নেমেছেন পার্শবর্তী এলাকাবাসী। আজ শুক্রবার নগরীর শাহী ঈদগাহ এলাকায় বৃহত্তর শাহী ঈদগাহবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন করেন তারা। মানবন্ধনে তিন দিনের মধ্যে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে না আসলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা। এলাকাবাসীর সঙ্গে মানববন্ধনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত দম্পতির কন্যারা তাদের মা-বাবার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এর আগে, ঘটনার পর মিতালী এলাকাবাসী ঘটনাস্থলের পাশে ও শহীদ মিনারের সামনে পৃথক মানববন্ধন করেন।
যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ও সমাজসেবক হেলাল চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী সোহাগ আহমদের পরিচালনায় মানববন্ধনে নিহত দম্পতির কন্যা তাহমিনা সাত্তার এনি ও সেলিনা সুলতানা শিখা ছাড়াও বক্তব্য দেন এলাকার মুরুব্বি মিল্লাত আহমেদ, সুয়েব আহমদ, রুবেল আহমেদ, ফাহিদ আহমদ, তানভীর আহমদ প্রমুখ।
মানববন্ধনে এলাকাবাসীরা বলেন, গত ১২ আগস্ট নিজ বাসায় নৃশংসভাবে দম্পতি ও কাজের মেয়েকে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ড শুধু সিলেটবাসীকেই নয়; বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন কারণের কথা বলা হয়েছে। ঘটনার দিন পুলিশের পক্ষ থেকে প্রেমের সম্পর্ককে হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরে খারাপ ব্যবহারের কারণে হত্যাকাণ্ডের কথা বলা হয়। সবশেষ চুরির টাকা কিংবা বাসাভাড়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে যে বক্তব্য সামনে এসেছে, তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
যুক্তরাজ্য প্রবাসী হেলাল চৌধুরী বলেন, তিনজন মানুষের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ মানুষকে হতাশ করেছে। তিনি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের দাবি জানান। তিনি বলেন, আমরা অপরাধীদের ধরতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রশাসনকে ৩ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছি। হত্যাকাণ্ডের পেছনে জায়গা-সম্পত্তি কিংবা অন্য কোনো বিরোধের যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রংপুরে একটি ঘটনায় তিন দিনের মধ্যে তদন্ত সংস্থা পরিবর্তন করা হলেও সিলেটের মতো একটি ন্যক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তদন্তে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি নেই। এতে নিহত পরিবারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।