ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কক্সবাজার

হোটেলের বারে ছুরিকাঘাতে তরুণ নিহত, স্থানীয়দের মারধরে আটক তরুণের মৃত্যু

হোটেলের বারে ছুরিকাঘাতে তরুণ নিহত, স্থানীয়দের মারধরে আটক তরুণের মৃত্যু
×

প্রতীকী ছবি

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ২২:০৭

কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলের বারে গত বৃহস্পতিবার রাতে ছুরিকাঘাতে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর স্থানীয়দের মারধরের শিকার আরেক তরুণকে আটক করে পুলিশ। শুক্রবার তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

নিহত দুজন হলেন নাজিবুল হক রাশেদ (২৮) ও সোলাইমান ওরফে সালমান (৩০)। রাশেদের বাড়ি শহরের মধ্যম নুনিয়াছড়া এলাকায়। সালমানের বাড়ি শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকায়।

পুলিশ জানিয়েছে, সালমান একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে সদর থানায় ছিনতাইসহ একাধিক মামলা আছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঝাউতলা এলাকার রেনেসাঁ দ্য গ্র্যান্ড হোটেলের বারে এ ঘটনা ঘটে। 

বারের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বৃহস্পতিবার রাতে রাশেদসহ কয়েকজন তরুণ হোটেলের বারে বসে মদ পান করছিলেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরে বাইরে থেকে আরও কয়েকজন সেখানে আসেন। তারা বারের দোতলায় গিয়ে রাশেদের ওপর আক্রমণ চালান। এ সময় তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে হোটেলের বাইরে এনে বোতল ভেঙে তাঁকে আরও কিছু আঘাত করা হয়।

পুলিশ জানায়, গুরুতর অবস্থায় রাশেদকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। 

ঘটনার পর কয়েকজন পালিয়ে গেলেও জনতা সালমানকে আটক করেন। এরপর তাঁকে নুনিয়ারছড়ার ফিশারিঘাট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে মারধরের পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এরপর সালমানকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাঁকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। শুক্রবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

বার ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজের বর্ণনা দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, রাত ১১টার পরপর শহরের খুরুশকুল রাস্তার মাথা এলাকার পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী তাজুয়ার হক রাধি ও তাঁর বন্ধু সালমান বারে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে সালমান গিয়ে রাশেদকে জাপটে ধরেন। রাধি এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। পরে কাঁচের বোতল ভেঙে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে রাশেদ বারের বাইরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সোলাইমান ওরফে সালমান একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে সদর থানায় ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান বলেন, বারের ভেতরের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

অহিদুর রহমান বলেন, ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে এবং কারা এতে জড়িত ছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হবে।

অহিদুর রহমান আরও বলেন, আলামত সংগ্রহ ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেনেসাঁ হোটেলের বারটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘটনার সময় বারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কোনো ঘাটতি ছিল কিনা, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×