ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন

তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন
×

 সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৫৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে অস্তিত্বহীন ও বন্ধ চালকলকে কাগজে সচল দেখিয়ে সরকারি প্রায় ৫৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকার চাল বরাদ্দের ঘটনায় এবার তদন্ত নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। দৈনিক সমকালসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর জেলা প্রশাসনের নির্দেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এক মাসেও শেষ হয়নি তদন্ত। বরং সার মনিটরিংসহ নানা ব্যস্ততার অজুহাতে সময় বাড়ছে। এতে ‘ভৌতিক’ চালকলের নামে বিপুল অর্থ লোপাটের অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে কিনা– এ প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে।

খাদ্য বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রায়গঞ্জের ১৩৭টি মিলের নামে প্রায় ১২ হাজার টন চাল বরাদ্দ দেখানো হয়। অনুসন্ধানে ভুয়া ও বন্ধ মিলের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর ‘আইওয়াশ হিসেবে’ খাদ্য বিভাগ পাঁচটি মিলের প্রায় ৪০০ টন চাল সরবরাহের বরাদ্দ স্থগিত করে। এত বড় অনিয়মের পরও এর নেপথ্যে থাকা কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী মিল মালিকদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।  তদন্তের গতি থামাতে নানা কৌশলের অভিযোগও উঠেছে। 
পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার পরিবেশকর্মী সোহাগ হোসেনকে মামলা ও হুমকির ভয় দেখিয়ে মীমাংসা বৈঠকে আপস করানোর অভিযোগ রয়েছে। 
তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোমিনুল ইসলাম বলেন, সার মনিটরিংয়ের ব্যস্ততায় তদন্তে সময় দেওয়া যায়নি। ফাঁকে ফাঁকে কাজ চলছে। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে আরও ১৫ কর্মদিবস সময় চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হারুন অর রশিদ দাবি করেন, ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটির দিনে খাদ্য অধিদপ্তরের একটি দল রায়গঞ্জে গিয়ে অধিকাংশ মিল চালু পেয়েছে। সত্যিই উৎপাদন চলছিল কিনা, তা যাচাইয়ে গত তিন মাসের বিদ্যুৎ বিল, ধান কেনার রসিদ কিংবা চাল বিক্রির নথি সংগ্রহ করা হয়েছে কিনা– এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি তিনি।
প্রশ্ন উঠছে নথি-প্রমাণ ছাড়া বন্ধ মিল কীভাবে সচল হলো? স্থানীয়দের দাবি, ছুটির দিনের তড়িঘড়ি পরিদর্শন নয়; বিদ্যুৎ ব্যবহার, ধান-চাল কেনাবেচা, ব্যাংক লেনদেন ও বরাদ্দের পূর্ণ নথি যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে জালিয়াতির নেপথ্যের কর্মকর্তা ও মিল মালিক সিন্ডিকেট শনাক্ত করে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রায়গঞ্জ উপজেলাবাসী। 
এ প্রসঙ্গে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, ‘বর্তমানে সার মনিটরিংয়ের ব্যস্ততা থাকায় তদন্ত কর্মকর্তারা একটু সময় নিলেও তদন্তে কোনো রকম কারসাজি করা হবে না, এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি।’

আরও পড়ুন

×