ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সালথায় নৌকা বাইচে মাতল হাজারো মানুষ

সালথায় নৌকা বাইচে মাতল হাজারো মানুষ
×

ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। ছবি: সমকাল

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ১১:৩৬

বিলের পানিতে ছুটে চলছে একের পর এক নৌকা। মাঝিদের হাতে দ্রুত উঠানামা করছে বৈঠা। কার নৌকা আগে পৌঁছাবে, তা নিয়ে টানটান উত্তেজনা। বিলের দুই পাড় থেকে করতালি ও হর্ষধ্বনিতে মাঝিদের উৎসাহ দিচ্ছেন হাজারো দর্শক। দীর্ঘদিন পর এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের দেখা মিলেছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামের আষাঢ়ের বিলে।

শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচকে ঘিরে পুরো এলাকা পরিণত হয় উৎসবের মিলনমেলায়। নৌকা বাইচের পাশাপাশি বিলের পাড়ে বসে গ্রামীণ মেলা। সকাল থেকেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের আনাগোনা শুরু হয়।

আয়োজকরা জানান, বিকেল ৪টার দিকে খোয়াড় গ্রামের বটতলা সংলগ্ন আষাঢ়ের বিলে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ে কয়েকটি নৌকা এতে অংশ নেয়। নৌকাগুলো পানিতে নামার পর শুরু হয় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। মাঝিদের সম্মিলিত বৈঠার আঘাতে নৌকাগুলো দ্রুত ছুটে যায় সামনের দিকে। প্রতিযোগিতার গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের মধ্যেও উত্তেজনা তৈরি হয়। কেউ মোবাইল ফোনে মুহূর্তগুলো ধারণ করেন, আবার কেউ করতালি ও হর্ষধ্বনিতে মাঝিদের উৎসাহ দেন।

নৌকা বাইচ উপলক্ষে বিলের পাড়ে বসে গ্রামীণ মেলা। সেখানে বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও খাবারের দোকান সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। ছিল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নানা সামগ্রী। শিশুদের জন্যও ছিল বিনোদনের ব্যবস্থা। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মেলায় আসা মানুষের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

স্থানীয় বাসিন্দা হারুন-অর-রশীদ, সামাদ মাতুব্বর, আনিস মেম্বর, রফিকুল ইসলাম ও সাফিকুল ইসলাম বলেন, নৌকা বাইচ গ্রামবাংলার বহু পুরোনো ঐতিহ্যের অংশ। একসময় বর্ষাকালে বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত এমন আয়োজন হলেও নানা কারণে বর্তমানে তা কমে গেছে। এ ধরনের আয়োজন হলে মানুষ আনন্দ পাওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্ম দেশের লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন বলেন, খাল-বিলে আগের মতো পর্যাপ্ত পানি না থাকায় ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ আয়োজন দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক জায়গায় এ আয়োজন প্রায় হারিয়ে গেছে। তবে খোয়াড় গ্রামের এ আয়োজন ব্যতিক্রম। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ এখনো রয়েছে।

বিশেষ অতিথি সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান বলেন, বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের স্লোগান ও দর্শকদের উচ্ছ্বাসে আষাঢ়ের বিল যেন ফিরে পেয়েছিল তার পুরোনো রূপ। এমন আয়োজন নিয়মিত হলে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, ফরিদপুর জেলা স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মো. জাহিদ হোসেন, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ, শাহিনুর রহমান, বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম মজনু মিয়া, মো. মুরাদুর রহমান ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। নৌকা বাইচ শেষে বিজয়ী দলগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

×