ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভবনের অংশীদার নারীর প্রশ্ন

কার স্বার্থে পার্কিং প্লেস উদ্ধার করতে পারছে না সিসিক

কার স্বার্থে পার্কিং প্লেস উদ্ধার করতে পারছে না সিসিক
×

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:৩৯

সিলেট নগরীর আম্বরখানার ওয়েভস আবাসিক এলাকার শীতলগলির মুখে নির্মিত আব্দুল গাফ্ফার কমপ্লেক্সের পার্কিং প্লেস তিনবছরে ৮ বার তদন্ত ও ছয়বার নোটিশ করেও উদ্ধার করতে পারেনি সিলেট সিটি করপোরেন (সিসিক)। আজ শনিবার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ভবনের অংশীদার ওয়েভস-এ ৭৮ নম্বর বাসার মালিক মৃত আবুল লেইছ চৌধুরীর মেয়ে রোকসানা লেইছ। তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার স্বামী মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। তারা প্রশ্ন তুলেন- কার ইশারায় ও মদদে সিসিক পার্কিং প্লেস উদ্ধার করতে পারছে না।

বক্তব্যে রোকসানা লেইছ উল্লেখ করেন, হিস্যা অনুযায়ী তারা ভবন ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু ভবনের অংশীদার চাচাতো ভাই আব্দুল হাসিব তুহেল, আব্দুল আলিম রাসেল ও তাদের চাচি মনোয়ারা বেগম নিয়মবহির্ভূতভাবে ভবনের বর্ধিত অংশ নির্মাণ ও পার্কিং প্লেসে ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দিয়েছেন। তাদের এমন কর্মকাণ্ড ২০২৩ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ভবনের বর্ধিত অংশ অপসারণ ও পার্কিং প্লেস থেকে দোকান উচ্ছেদের একাধিক আবেদন করেন তিনি। কিন্তু গত তিন বছরে সিসিক বার বার তদন্ত ও অভিযুক্ত পক্ষকে নোটিশ প্রদান করে। সর্বশেষ চূড়ান্ত নোটিশের পর গত ১২ আগস্ট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযানে গেলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বক্তব্যে রোকসানা জানান, সিসিক উচ্ছেদে গিয়ে মনে হয়েছে, তারা কনে দেখতে গিয়েছিল। নকশা পরিবর্তন ও বিল্ডিং কোড অমান্যকারীর বিরুদ্ধে সিসিক ব্যবস্থা না নেওয়াটা রহস্যজনক। অর্থের বিনিময়ে হোক কিংবা কারও ইশারায় হোক, নিজের দায়িত্বটুকু পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে সিসিক। কার স্বার্থে সিসিক কাজ করছে-এমন প্রশ্ন তুলেন রোকসানা।

সংবাদ সম্মেলনে রোকসানা জানান, তাদের উত্তরাধীকারসূত্রে পাওয়া জায়গার ওপর যৌথ মালিকানায় তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। ২০২১ সালে অংশীদার তুহেল, রাসেল ও মনোয়ারা তাদের অংশের সঙ্গে ভবনের সামনে বর্ধিত অংশ দখল করেন এবং পরবর্তীতে পার্কিং দখল করে মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তির কাছে ভাড়া দেন। গত তিন বছরে ওই কাজের জন্য তার স্বামী কম হলেও একশবার সিটি করপোরেশনে গেছেন। বার বার তদন্ত ও নোটিশের পর সর্বশেষ গত ১২ আগস্ট উচ্ছেদ অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয় সিসিক। ওইদিন সিসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযানে গেলেও কোনো কাজ করা হয়নি। পরবর্তীতে উচ্ছেদ না করার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট ভবনের অংশীদারিত্ব নিয়ে পারিবারিক বিরোধ ও জটিলতা উল্লেখ করে দেওয়ানী মামলার পরামর্শ ও মতামত দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত দেন।

রোকসানা প্রশ্ন তুলেন, ভবনের বর্ধিত অংশ অপসারণ ও পার্কিং প্লেস উদ্ধারের বিষয় পারিবারিক ও সম্পদ নিয়ে বিরোধ হয় কীভাবে? বিষয়টি স্পষ্ট সিসিকের এখতিয়ারভুক্ত থাকার পরও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারছে না সিসিক। সামান্য কাজটুকু যদি সিসিক না করতে পারে তাহলে আমরা ট্যাক্স কেন দেব।

এ বিষয়ে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সমকালকে জানান, পার্কিং প্লেসে দোকান করার অনুমতি নেই। ভবনের নকশা পরিবর্তন করতে হলেও অনুমতি লাগবে। এ অবস্থায় কেন পার্কিং প্লেস উদ্ধার হচ্ছে না বিষয়টি তিনি খবর না নিয়ে বলতে পারছেন না।

আরও পড়ুন

×