বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার
আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ২০:১৯
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটার অভিযোগ উঠেছিল বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে। এর দুই মাস পর গত বৃহস্পতিবার তাঁকে ছুরিকাঘাত ও লাঠিপেটা করার ঘটনা ঘটে। এরপর হারুনুর রশিদের করা মামলায় রোয়াড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে পৌর শহরের কলেজপাড়া মহল্লার বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার সকালে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
হারুনুর রশিদ রুকিন্দিপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং রোয়াড় গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে করে আক্কেলপুর বাজার থেকে রোয়াড় গ্রামে বাড়িতে ফিরছিলেন হারুনুর রশিদ। পথে রাজকান্দা মোড়ে সাত-আটজন তাঁর পথরোধ করে। এক পর্যায়ে তাঁকে ছুরিকাঘাত ও লাঠিপেটা করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে থানায় মামলা হয়। এতে প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান, তাঁর স্ত্রী সোনামুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামীমা নাসরিন, তাঁর বড় ভাই দুলাল হোসেন ও দারাজ উদ্দিন এবং চাচাতো ভাই গাজীউলকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।
রোয়াড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমানের সঙ্গে বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদের বিরোধের সূত্রপাত বলে জানা গেছে।
প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমানের অভিযোগ, গত ২১ জুন হারুনুর রশিদ বিদ্যালয়ে গিয়ে তাঁর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। এক পর্যায়ে হারুনুর রশিদ পায়ের জুতা খুলে তাঁকে পেটান। এ ঘটনায় তিনি থানায় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে আদালতে মামলা করেন তিনি। ওই মামলায় হারুনুর রশিদ ছাড়াও শাহনেওয়াজ, আতিকুজ্জামান মুন ও আতিয়ার রহমানকে আসামি করা হয়।
শনিবার থানায় সাংবাদিকদের প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান বলেন, মামলা তুলে নিতে হারুনুর রশিদ আমাকে চাপ ও চাকরি খাওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন। এতে ব্যর্থ হয়ে এখন হামলা ও ছুরিকাঘাতের নাটক করে আমাদের ফাঁসানো হয়েছে। সত্য উন্মোচিত হবেই।
তবে প্রধান শিক্ষকের এ অভিযোগ অস্বীকার করে হারুনুর রশিদ বলেন, হামলাকারীদের মধ্যে চারজনকে আমি চিনতে পেরেছি। বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমানের সঙ্গে আমার বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরেই দুই ভাইসহ তাঁর নেতৃত্বে আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, হারুনুর রশিদের করা মামলায় প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।