পুলিশ সদস্যকে মারধর, মুচলেকায় ছাড়া পেলেন সাবেক ছাত্রদল নেতা
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
মাগুরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ২০:৫০ | আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ২১:০৯
মাগুরায় প্রকাশ্যে পুলিশের এক কনস্টেবলকে চড় দেওয়ার পর থানা থেকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে নাইমুজ্জামান নয়ন নামে সাবেক এক ছাত্রদল নেতাকে। গত শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। নয়ন ছাত্রদলের সদর থানা ইউনিটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
ভুক্তভোগী ইমরান হোসেন কনস্টেবল হিসেবে জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুমে কর্মরত। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত শুক্রবার বিকেলে ঢাকা রোড বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত জুলাই-আগস্ট শহীদ বেদিতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে ফিরছিলেন ইমরান হোসেন। এ সময় কাঁচাবাজার এলাকায় প্রাইভেটকার চালিয়ে আসছিলেন মাগুরা জেলা মাইক্রোবাস সমিতির সভাপতি ও সাবেক ছাত্রদল নেতা নাইমুজ্জামান নয়ন। তিনি হর্ন বাজিয়ে সাইড চাইলে কিছু দূর গিয়ে মোটরসাইকেল থামান ইমরান। সেখানে নেমে সাইড না দেওয়ার কারণ জানতে চান নয়ন। এ সময় ইমরান জানান, পাশে জায়গা ছিল না। তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হলে একই পথ দিয়ে যাওয়া মাগুরা সদর থানার উপপরিদর্শক মাসুদ হোসেন ও শরিফ হোসেন সেখানে থামেন। কিছুক্ষণ কথাবার্তার পর তিন পুলিশ সদস্য মোটরসাইকেলে করে ভায়নার দিকে রওনা হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভায়নার অদূরে থাকা মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে নিজের প্রাইভেট কার দিয়ে মহাসড়কে পুলিশ সদস্যদের গতিরোধ করেন ছাত্রদলের সাবেক নেতা নয়ন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে আবারও তর্কাতর্কি হয়। এরই মধ্যে ইমরানকে মাথার পেছন দিকে চড়-থাপ্পড় মারেন নয়ন। তিনি মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সদর থানা-পুলিশ নয়নকে সন্ধ্যার পর আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিলের নেতৃত্বে বিএনপির নেতারা সদর থানায় যান। তারা বিষয়টিকে ভুল-বোঝাবুঝি বলে দাবি করেন। পরে নয়নের কাছ থেকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
নাইমুজ্জামান নয়নের দাবি, ওই পুলিশ সদস্য পরিচয় না দেওয়ায় ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি ক্ষমা চেয়ে বিষয়টির মীমাংসা করেছেন।
পুলিশ সদস্য ইমরান হোসেন বলেন, একপ্রকার বিনা কারণেই আমি মারধরের শিকার হয়েছি। নয়ন মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে আমাদের সঙ্গে গালাগালিসহ অসদাচরণ করেন। এমনকি আমাদের (তিন পুলিশ সদস্যকে) মাইক্রোবাস সমিতির অফিসে আটকে রাখারও হুমকি দেন। আমরা তার কিছুই করতে পারব না— এরকম হুঁশিয়ারিও দেন।
এদিকে নয়নকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় একাধিক পুলিশ সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গত শুক্রবার দুপুরে তারা বলেন, বিনা কারণে পুলিশের গায়ে আঘাত করেছেন ওই ব্যক্তি।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনার পরপরই নয়নকে আটক করা হয়েছিল। পরে মুচলেকা রেখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে আপাতত আর কিছু বলতে পারছি না।