ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রংপুরে চার খুন

ডিবি হেফাজতে সিদ্ধার্থ দাসের বাবা-ভাই

ডিবি হেফাজতে সিদ্ধার্থ দাসের বাবা-ভাই
×

পার্থ দাস ও বিনয় চন্দ্র দাস

মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ২০:৫৮ | আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ২১:২০

রংপুর নগরের মাসুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বাবা ও ভাইকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শনিবার বিকেলে তাদের ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, বিকেলে সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় চন্দ্র দাস এবং ভাই পার্থ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। মামলার বিভিন্ন বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এর আগেও তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা কালক্ষেপণ করেন। তাই বাধ্য হয়ে আজ তাদের নিয়ে আসা হয়েছে।

এর আগে, আলোচিত এই হত্যা মামলায় অভিযুক্ত দুই যুবক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

পরে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের জবানবন্দির বিস্তারিত তুলে ধরেন তৎকালীন রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। 

তিনি জানান, ঘটনার দিন ভোরে ছাদে হাঁটাহাটি করতে গিয়ে অভিযুক্ত মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে ইয়াবা সেবন করতে দেখেন গণপতি চক্রবর্তী। তিনি তাদের ধমক দেন। তখন ইয়াবা সেবনের বিষয়টি যাতে জানাজানি না হয়, সেজন্য গণপতিকে হত্যা করেন দুই অভিযুক্ত। 

ফরেনসিক, ময়নাতদন্ত ও জবানবন্দি অনুযায়ী মা-মেয়ে ধর্ষণের শিকার হননি বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। 

জবানবন্দির সূত্রে তিনি আরও জানাযন, ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার রাতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাস তাদের বন্ধু সীমান্ত দাসের বাড়িতে তিনটি ইয়াবা বড়ি সেবন করেন। পরে মোবাইল বন্ধক রেখে ইয়াবা ব্যবসায়ী শান্তর কাছে আরও কয়েকটি ইয়াবা নিয়ে পাশের নির্মাণাধীন ভবন হয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান। ভোরে ছাদে হাঁটাহাটি করতে গিয়ে তাদের দেখে ফেলেন গণপতি চক্রবর্তী। 

রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার জানান, গণপতি চক্রবর্তীর গলায় থাকা গামছা দিয়েই তাকে হত্যা করে দুই অভিযুক্ত। এ সময় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। শব্দ পেয়ে ছাদে ওঠেন গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে আগামী। এ সময় তারা প্রীতিলতা ও আগামীকে ধরে ফেলেন। প্রীতিলতাকে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন। পরে পাশের কবুতরের বাসার দড়ি গলায় পেঁচিয়ে আগামীকে হত্যা করেন। এরপর পাশের বাসার ছাদ থেকে যাতে দেখা না যায়, এ জন্য প্রীতিলতা ও আগামীর লাশ টেনে সিঁড়ির দিকে নিয়ে যান। 

পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘এর মধ্যে ওই বাড়ির ছোট ছেলে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের ঘুম ভেঙে যায়। সিদ্ধার্থকে দেখে প্রিয়ম বলে, ‘দাদা তুমি এখানে কেন?’ এ কথা বলার পরপরই তাকেও হত্যা করে অভিযুক্তরা।’ 

 

আরও পড়ুন

×