ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

এক কেজির মাছ দেওয়ার কথা, মিলল ৫০০-৬০০ গ্রামের

এক কেজির মাছ দেওয়ার কথা, মিলল ৫০০-৬০০ গ্রামের
×

আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি: সমকাল

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ২১:১৭ | আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ২১:২০

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের খাবার সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের খাবার হিসেবে নির্ধারিত ওজনের চেয়ে ছোট মাছ দেওয়া হয়। মাথা ও লেজ দিতে নিষেধ থাকলেও রোগীদের সেগুলো দেওয়া হয়। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আজ শনিবার সকালে কয়েকজন সাংবাদিক হাসপাতালটিতে গিয়ে অনিয়মের সত্যতা পান।

নিয়ম অনুযায়ী, রোগীদের খাবারের জন্য যে মাছ কেনা হবে নাড়িভুঁড়ি বাদে প্রতি পিসের ওজন হতে হবে এক কেজি। আক্কেলপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরবরাহ করা হচ্ছে মাথা, লেজ ও নাড়িভুঁড়িসহ ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের মাছ। এ নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মাঝেও ক্ষোভের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

আজ সকালে হাসপাতালের রান্নাঘরে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের খাবার রান্নার প্রস্তুতি হিসেবে একটি পাত্রে ছোট আকারের মাছ রাখা হয়েছে। রান্নাঘরের পাশে থাকা ওজন পরিমাপক যন্ত্রে মাছগুলো একে একে ওজন করে দেখা যায়–মাথা, লেজ, নাড়িভুঁড়িসহ প্রতিটি মাছের ওজন ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রামের মধ্যে। সেখানে প্রায় ১২ থেকে ১৪ কেজি মাছ রাখা ছিল।

এ বিষয়ে খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে উদ্ধত আচরণ করেন। পরে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে পারব না। আপনারা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন।’ 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাজারে নির্ধারিত ওজনের মাছ না পাওয়া গেলে কম ওজনের মাছ দিয়ে দায় সারার সুযোগ নেই। বরং বিধি অনুযায়ী, নির্ধারিত ওজনের মাছ পাওয়া না গেলে মেনু পরিবর্তন করে বিকল্প খাবার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

বিষয়টি জানতে পেরে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. ফজলে রাব্বি রাকিব তাৎক্ষণিকভাবে রান্নাঘরে গিয়ে মাছগুলো পরিমাপ করেন। ওজন নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে অনেক কম পাওয়ায় তিনি সরবরাহ করা মাছ বাতিল করে দেন এবং মেনু পরিবর্তন করে রোগীদের মুরগির মাংস দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে রান্নাঘরের পাশে সরবরাহ করা মাছগুলো প্যাকেট করতে দেখা যায় ঠিকাদার সাইফুল ইসলামকে। আরএমও ডা. মো. ফজলে রাব্বি রাকিব বলেন, নির্ধারিত ওজনের মাছ না থাকায় সেগুলো ফেরত দেওয়া হয়েছে। পরে মুরগির মাংস দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সজল হোসেন নামের এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার চাচাকে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি। হাসপাতালে যে খাবার সরবরাহ করা হয় তা অত্যন্ত নিম্নমানের। যে দিন মাছ দেওয়া হয় সেগুলো থাকে আকারে অনেক ছোট। তাছাড়া মাথা ও লেজ দেওয়ার কথা না থাকলেও তা দেওয়া হয়। এগুলোর প্রতি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত।’

মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদ বলেন, ‘আমি ছুটিতে আছি। বিষয়টি জানতে পেরেছি। তাৎক্ষণিকভাবে ঠিকাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের ফোন দিয়ে মেনু পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন

×