সাফারি পার্কে গাড়ির ময়লা নিয়ে আপত্তি, দর্শনার্থীদের ওপর দফায় দফায় হামলা
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ২৩:২৭
গাজীপুর সাফারি পার্কে গাড়ির ভেতরে ময়লা-আবর্জনা থাকা নিয়ে আপত্তি করায় এক নারী ও তাঁর দুই ছেলের ওপর পার্কের কর্মীরা দফায় দফায় হামলা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁদের মারধর করে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। হামলায় স্বর্ণের চেইন, নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তিনটি আইফোন ভাঙচুরের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
আজ শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। হামলার একটি ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় আজ রাতে রাজধানীর ভাটারা থানার গুলশান নতুন বাজার এলাকার প্রয়াত জাফর আহমেদের মেয়ে সালমা মোস্তারী শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রথম দফায় মারধরের পর সালমা মোস্তারী, তাঁর দুই ছেলে জারিফ (১৫) ও মাহিন (১৭) এবং গাড়িচালক রাসেলকে পার্কের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে সেখানে আবার তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে কোনো উপায় না পেয়ে সালমা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
সালমা মোস্তারী জানান, শনিবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সাফারি পার্কে যান তাঁরা। পার্কের বিভিন্ন পশু দেখার জন্য নির্ধারিত গাড়ির টিকিট কেটে গাড়িতে ওঠার সময় তাঁরা দেখতে পান, গাড়ির ভেতরে ময়লা-আবর্জনা পড়ে আছে। বিষয়টি পার্কের কর্মীদের জানালে তাঁরা অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং গালাগাল শুরু করেন।
অভিযোগে সালমা বলেন, এর প্রতিবাদ করলে চন্দন কুমার, মাসুদ রানা ও ধনজয় ধনাসহ আরও ২০ থেকে ৩০ জন তাঁদের ওপর চড়াও হন। এ সময় স্টিলের লাঠি দিয়ে তাঁদের এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তিনি, তাঁর দুই ছেলে ও গাড়িচালক আহত হন।
সালমার অভিযোগ, মারধরের একপর্যায়ে তাঁর গলায় থাকা প্রায় সাড়ে তিন ভরি ওজনের, আনুমানিক ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের ব্যাগে থাকা ৮০ হাজার টাকাও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।
এ ছাড়া তাঁকে মারধরের পাশাপাশি পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সালমা ও তাঁর দুই ছেলের কাছে থাকা তিনটি আইফোন কেড়ে নিয়ে মাটিতে ফেলে ভাঙচুর করা হয়। পরে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে তাঁদের পার্কের একটি অফিসকক্ষে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সালমা মোস্তারী বলেন, পরে সাফারি পার্কে দায়িত্বে থাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী ভাঙচুর করা মোবাইল ফোনগুলো তাঁদের ফেরত দেন।
এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী সমকালকে বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার জন্য আমরা সালমা মোস্তারীর কাছে ক্ষমা চেয়েছি। গাড়িতে থাকা যে স্টাফের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটেছে, তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর নাম ফরহাদর হোসেন।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় সালমা মোস্তারী একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
- বিষয় :
- গাজীপুর
- সাফারি পার্ক
- হামলা