ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১৫

কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১৫
×

ছবি: সমকাল

নীলফামারী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ০৫:০৬

নীলফামারীর সৈয়দপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত এক তরুণকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার মিস্ত্রিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর এবং বাসিন্দাদের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নবীনগর ও শাখাওয়াত তালাও এলাকার দুটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে শনিবার দুপুরে শাখাওয়াত তালাও এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা নবীনগর এলাকার সাহিদের ছেলে রাজাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে।

এ সময় নবীনগর এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষের সময় তারা এলাকার কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায় এবং ঘরে থাকা নারী-পুরুষদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালায় বলে স্থানীয়রা জানান।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে রাজার অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নবীনগর এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী গুলশান আরা বলেন, ‘শাখাওয়াত তালাও এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা হঠাৎ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের পাড়ায় ঢুকে পড়ে। তারা আমার বাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং আমাকেও লাঠি দিয়ে মারধর করেছে। অথচ দুই পক্ষের বিরোধের সঙ্গে আমার বা আমার পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।’

খবর পেয়ে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশকে দেখে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বন্ধ ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেগ পেতে হয়।

ওসি রেজাউল করিম রেজা বলেন, বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে মিস্ত্রিপাড়া মোড় ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত সবার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন আশ্বাস দেওয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।

আরও পড়ুন

×