বৃষ্টি হলেই পানি ঢোকে মডেল মসজিদে
উলিপুর মডেল মসজিদের প্রধান ফটকের সামনে জমে থাকা পানি মাড়িয়ে যাচ্ছেন মুসল্লিরা সমকাল
মোন্নাফ আলী, উলিপুর (কুড়িগ্রাম)
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:০৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রামের উলিপুর মডেল মসজিদ নির্মাণ শেষে গত বছরের সেপ্টেম্বরে হস্তান্তর করা হয়। কয়েক মাস পরেই ধরা পড়তে থাকে একের পর এক সমস্যা। সাউন্ড, লাইট সিস্টেম এবং এসি খারাপ হতে থাকে। বৃষ্টির মৌসুম শুরুর পর দেখা যায় মসজিদের মূল ফটকের সামনে পানি জমে থাকছে, ভেতরেও ঢুকছে। ইতোমধ্যে জলছাদের ওপরের স্তর নরম হয়ে উঠে গেছে। একটি মসজিদ নির্মাণে এত অনিয়ম দেখে হতবাক মুসল্লিরা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কীভাবে এমন কাজ ঠিকাদারের কাছ থেকে বুঝে নিল তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে উলিপুর মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণে ২০১৯ সালে দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজটি পায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাবলু প্রপাটি লিমিটেড। দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ ছাড়াই ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মসজিদটি গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মসজিদ কমিটির সাবেক সহসভাপতি সহযোগী অধ্যাপক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদার শুরু থেকেই নিম্নমানের কাজ করছিলেন। এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিডি ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানিয়েছি। কিন্ত তারা কোনো পদক্ষেপ নেননি। কুড়িগ্রাম ইসলামিক ফাউন্ডেশনে উপপরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে আপত্তি করেছি। ঠিকাদার ওমর হাসান নিম্নমানের কাজ করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা নকশা অনুযায়ী কাজ করেছি। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ নেই। উলিপুর মডেল মসজিদের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম আরিফ বলেন, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিডির সঙ্গে কথা বলে সমস্যাগুলো সমাধানের ব্যবস্থা নেব। কুড়িগ্রাম গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, ঠিকাদারের কিছু বিল আটকানো আছে। ফলে সমস্যাগুলো ঠিক করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
- বিষয় :
- মসজিদ