ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ
×

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৩২

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের (সোনারগাঁও জাদুঘর) পরিচালক কাজী মাহবুবুল আলমসহ একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস। আরও বক্তব্য দেন চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি। উপস্থিত ছিলেন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক কবি রহমান মুজিব, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল, সোনারগাঁও সাহিত্য নিকেতনের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক লেখক মোয়াজ্জেনুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো বড় সরদারবাড়ির পুনরুদ্ধার কাজ ২০১২ সালে শুরু হয়ে ২০১৭ সালে শেষ হয়। ২০১৮ সালে ভবনটি দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। সম্প্রতি চার দিনের জন্য ‘কোক স্টুডিও বাংলা সিজন ৪’-এর ভিডিও ধারণ ও কোকা-কোলার বিজ্ঞাপন তৈরির কাজে ঐতিহাসিক ভবনটি ব্যবহার করা হয়। এ সময় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর, ভারী ক্যামেরা, আলোকসজ্জা, সাউন্ড সিস্টেমসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহারের কারণে ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুটিংয়ের পর ভবনের দেয়াল, অলংকরণ ও নকশার বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতি এবং দ্বিতীয় আঙিনার কাছে একটি অংশ ভেঙে গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ফাউন্ডেশনের পরিচালক কাজী মাহবুবুল আলম, সহকারী পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন এবং গাইড লেকচারার আশরাফুল আলম নয়নের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়। কবি শাহেদ কায়েস বলেন, বড় সরদারবাড়িকে চার দিনের জন্য কাগজপত্রে ভাড়া বাবদ ছয় লাখ টাকা আদায় দেখানো হয়েছে। বাস্তবে কয়েক গুণ ভাড়া আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিংয়ের আগে বড় সরদারবাড়ির রেস্টোরেশন প্রকল্পের পরিচালক স্থপতি অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এম আহমেদ ভবনটি পরিদর্শন করেন। তিনি শুটিংয়ের জন্য আনা ভারী যন্ত্রপাতি দেখে আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এসব সরঞ্জাম ব্যবহারে ঐতিহাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই তিনি ভাড়া না দেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু পরিচালক মাহবুবুল আলম তাঁর পরামর্শ গ্রাহ্য না করে অর্থের মোহে এই ঐতিহাসিক স্থাপনা ভাড়া দেন। ফলে ভবনটির কার্নিশের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছে। ভবনের ভেতরেও বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, পরিচালক কাজী মাহবুবুল আলম ও প্রকৌশলী হানিফ আহমেদ টেন্ডার ছাড়াই প্রায় ৫০ লাখ টাকায় বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উদযাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব এফ ফাইভ কমিউনিকেশন নামে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানকে দেন। এফ ফাইভ কমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া বিল ও চেক তৈরি করে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করেন। এ ছাড়া ফাউন্ডেশনে দুটি এটিএম বুথ নির্মাণে ৬ লাখ টাকার ক্ষেত্রে ৩০ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। ফাউন্ডেশনের স্মারকগ্রন্থের আনুমানিক ব্যয় ৫ লাখ টাকা হলেও প্রায় ১২ লাখ টাকার বিল করেছেন পরিচালক মাহবুবুল আলম। এ ছাড়া শ্রমিকের নামে ভুয়া বিল তৈরি করে টাকা আত্মসাৎ, পরিচালনা বোর্ডের নির্দেশ অমান্য করে বেসরকারি ব্যাংকে টাকা রাখা, সুবর্ণজয়ন্তী স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের নামে অতিরিক্ত বিলে বানানো, কারুপল্লীর কারুশিল্পীদের কাঁচামাল সংগ্রহের নামে ভুয়া বিল তৈরিসহ ১২টি দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। এসবের সঠিক তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটির নেতারা সোনারগাঁ লোকশিল্প জাদুঘরের কারুপল্লীর দোকান বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ করেন। তারা বলেন, প্রকৃত কারুশিল্পীদের দোকান পেছনের দিকে রাখা হয়েছে। অথচ ১ নম্বর গেট ও পার্কিংয়ের পাশে অর্থের বিনিময়ে কিছু ব্যক্তিকে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যাদের অনেকেই প্রকৃত কারুশিল্পী নন।
রফিউর রাব্বি বলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি করতে হবে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ লোগো ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক মাহবুবুল আলম জানান, সবকিছুর কাগজপত্র আমাদের কাছে আছে। সব কাজ বৈধভাবে করা হয়েছে। বড় সরদারবাড়ি এবারই প্রথম শুটিংয়ের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়নি। আগেও দেওয়া হয়েছে। এটি ভাড়া দেওয়ার এখতিয়ার আমার আছে। ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রকম দুর্নীতি হয়নি। ভাড়া দেওয়ার কারণে বড় সরদারবাড়ির কোনো ক্ষতি হয়নি। টেন্ডার ছাড়া ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, এটিও বৈধভাবে করা হয়েছে। এটিএম বুথ নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা পুরোই অসম্ভব একটি অভিযোগ। এখানে কীভাবে খরচ হয়েছে, সব হিসাব আছে। 

আরও পড়ুন

×