অন্তঃসত্ত্বা তরুণী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন
প্রতীকী ছবি
ফরিদপুর অফিস
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:১৪ | আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:১৫
ফরিদপুরে অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে হত্যার ১১ বছর পর তাঁর স্বামী রাকিব ব্যাপারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তিনি রাকিবকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
রাকিব ব্যাপারী ফরিদপুর সদর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্ত্রী হ্যাপি বেগম (১৮) একই গ্রামের হুমায়ুন শেখের মেয়ে। এ ঘটনায় ৬ আগস্ট রাকিব হোসেনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন হুমায়ুন শেখ।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে হ্যাপিকে নির্যাতন করছিলেন রাকিব। তিনি পাঁচ লাখ নগদ টাকা ও মোটরসাইকেল দাবি করেন। এসব না দেওয়ায় হ্যাপির ওপর অমানবিক নির্যাতন শুরু হয়। ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট রাতে হ্যাপিকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করে রাকিব ও তাঁর পরিবারের লোকজন পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় হুমায়ুন শেখের করা মামলা তদন্ত করেন কোতোয়ালি থানার এসআই মো. হুমায়ুন শেখ। ২০১৭ সালের ৮ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয় পুলিশ। মামলার নথি অনুযায়ী, মৃত্যুর সময় হ্যাপি বেগম ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। মরদেহের গলায় ওড়না প্যাঁচানোর চিহ্নসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথাও রয়েছে এতে। ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আজ এই রায় ঘোষণা করেন। রাকিবের উপস্থিতিতে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বিচারক।
ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী খান ভূঁইয়া আদালতের এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি রায়টিকে দৃষ্টান্তমূলক উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যতে নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতন কমে আসবে বলে আশা করছেন।