ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রংপুরে ৪ খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে: ত্রাণমন্ত্রী

রংপুরে ৪ খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে: ত্রাণমন্ত্রী
×

ছবি: সমকাল

মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:৪৩

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় গণপতি স্যারসহ তার পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ এ ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এসব হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। চারজনকে হত্যার ঘটনায় স্বল্প সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

রোববার দুপুরে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনাস্থল নগরের মাসুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

মন্ত্রী বলেন, একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে পুলিশ প্রশাসন দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং হত্যার পেছনে কী কারণ ছিল, তা বের করে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি আরও বলেন, গণপতি চক্রবর্তীকে হয়তো কেউ ডিস্টার্ব করত। তিনি হয়তো বাধা দিতে গিয়েছিলেন। এ কারণেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। 

জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়া মাদক নির্মূল সম্ভব নয় উল্লেখ করে পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, পল্লবীর আলোচিত শিশু হত্যা মামলায় দ্রুত সময়ের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। তার বিচারকার্য শেষ হয়েছে। লালমনিরহাটের আদিতমারীতে এক শিশু কন্যাকে হত্যার ঘটনায় ১৫ দিনের মধ্যে বিচারকার্য শেষ হয়েছে। অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে চার্জশিট দাখিল করে স্বল্প সময়ের মধ্যে জঘন্যতম এই হত্যাকাণ্ডের মামলায়ও অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। 

ত্রাণমন্ত্রী আরও বলেন, গণপতি ও তার পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদক রয়েছে। আমাদের সরকার মাদকের বিষয়ে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করেছে। জনগণের মধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মাদক কারবারি, পরিবহনকারী ও সেবনকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

এ সময় রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরের মাসুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুষ চক্রবর্তীকে (১২) হত্যা করা হয়। পরদিন রোববার ভোরে একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামের দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং নিজেদের দোষ স্বীকার করেন। 

আরও পড়ুন

×