ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আবার অশান্ত ববি ক্যাম্পাস

এবার বিভাগীয় চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে তালা দিলো শিক্ষার্থীরা

এবার বিভাগীয় চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে তালা দিলো শিক্ষার্থীরা
×

বরিশাল ব্যুরো

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ২০:০৬

আন্দোলনের নামে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে। এবার উপকূলীয় অধ্যয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট) বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশ্রাফুল হকের পদত্যাগের দাবিতে ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেন। আজ রোববার অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তার কক্ষে তালা দেওয়া হয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অধ্যাপক আশ্রাফুল শিক্ষাব্যবস্থায় অব্যবস্থাপনা, পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং সেশনজট সৃষ্টির জন্য দায়ী। অন্যদিকে, আশ্রাফুল এ আন্দোলনের জন্য তার সহকর্মী শিক্ষকদের ইঙ্গিত করে বলেছেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রকল্প পরিচালক নিযুক্ত হওয়ায় যাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছে তাদের ইন্ধনে এই আন্দোলন সৃস্টি হয়েছে। 

সূত্র জানিয়েছে, আজ রোববার দুপুরে উপকূলীয় অধ্যয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রথমে বিভাগীয় প্রধান হাফিজ আশ্রাফুলের কক্ষে তালা দেন। পরে উপাচার্যের দপ্তরের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। 

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভাগের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা চলছে। এসব সমস্যা নিরসনে বিভাগীয় চেয়ারম্যান কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিভাগে পক্ষপাতমূলক শিক্ষাব্যবস্থা চালু রয়েছে এবং সেশনজটসহ বিভিন্ন সমস্যার জন্য চেয়ারম্যান দায়ী। এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। বিভাগীয় চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

শিক্ষার্থী মো. নাজমুল হোসেনের ভাষ্য, চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুল হক ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী। চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ এবং বিভাগ থেকে অপসারণ করতে হবে। এসব দাবি মেনে ৩ দিনের মধ্যে বিভাগের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালুর জন্য উপাচার্যকে জানানো হয়েছে। 

আরেক শিক্ষার্থী মুসাব্বিরা জাবিন আশা বলেন, হাফিজ আশ্রাফুল ১০ বছর যাবত বিভাগের চেয়ারম্যান। এই ১০ বছরে মাত্র দুটি ব্যাচ বের হয়েছে। বেশিরভাগ কোর্স চেয়ারম্যানের। তিনি বেশিরভাগ ক্লাস নেন না। পরীক্ষা না নিয়েই নম্বর দিয়ে দেন। তার জন্য সেশনজটের সৃষ্টি হয়েছে। 

তবে আন্দোলন প্রসঙ্গে বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশ্রাফুল হকের পাল্টা অভিযোগ, তিনি উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রকল্প পরিচালক হওয়ায় একটি পক্ষের স্বার্থে আঘাত লেগেছে। তাদের ইন্ধনে এই আন্দোলনের ঘটানো হয়েছে। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি ও নিয়ম অনুযায়ী তাকে বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও ডিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ডিন ক্যাটাগরিতে সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এসব দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত কোনো প্রভাবের সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে ভুলভাবে বোঝানা হয়েছে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদকে মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি সাড়া দেননি। প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ সাংবাদিকদের বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার সবাইকে নিয়ে সভা করে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ৩ জন উপচার্যকে প্রত্যাহার করতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ ক্যাম্পাসে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের একাধিক গ্রুপ রয়েছে। তাদের স্বার্থেই শিক্ষার্থীদের উসকানি দিয়ে বিভিন্ন আন্দোলনে নামানো হয়।

আরও পড়ুন

×