ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঈশ্বরদী বিএনপিতে কোন্দল

পদবঞ্চিতদের পাল্টা কমিটি ঘোষণা, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে মুখোমুখি দুই পক্ষ

পদবঞ্চিতদের পাল্টা কমিটি ঘোষণা, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে মুখোমুখি দুই পক্ষ
×

ফাইল ছবি

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ২১:৫৫

দীর্ঘ সাত বছর পর পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর থেকেই শুরু হওয়া অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ক্ষোভ এখন চরম রূপ নিয়েছে। নবগঠিত কমিটিকে সুবিধাবাদীদের ‘পকেট কমিটি’ আখ্যা দিয়ে তার বিপরীতে আজ রোববার পাল্টা কমিটি ঘোষণা করেছে দলের পদবঞ্চিত ও একাংশ। 

একই সঙ্গে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে একই স্থানে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি তোরণ নির্মাণ করা নিয়ে তীব্র সংঘাত ও হাতাহাতির আশঙ্কা দেখা দেয়। পরে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হলেও স্থানীয় রাজনীতির মাঠে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা এখনও কাটেনি।

আজ সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী শহরের রেলওয়ে গেট এলাকায় ‘তৃণমূল বিএনপি’র ব্যানারে পাল্টা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ৩১ সদস্যবিশিষ্ট ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির পাল্টা কমিটিতে ইসলাম হোসেন জুয়েলকে আহ্বায়ক এবং আনোয়ার হোসেন জনিকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলার পাল্টা কমিটিতে মো. জাহাঙ্গীর আলমকে আহ্বায়ক এবং মো. সাহাবুদ্দিন সেন্টু সরদারকে সদস্য সচিব করা হয়।

ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টু (বর্তমানে দল থেকে বহিষ্কৃত) তৃণমূলের পক্ষে এই দুই কমিটির অনুমোদন দেন। 

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে পিন্টু অভিযোগ করেন, ‘গত ২২ আগস্ট রাতের অন্ধকারে উপজেলা ও পৌর বিএনপির যে পকেট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল, তার সঙ্গে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। দলের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে সুবিধাভোগীদের বসানো হয়েছে। তাই তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের দাবি ও অধিকার রক্ষায় বাধ্য হয়ে এই পাল্টা কমিটি গঠন করা হলো।’

এদিকে দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা নিয়ে ঈশ্বরদীতে দুই পক্ষের উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। শহরের আলহাজ্ব মোড়ে একই স্থানে দুই পক্ষ তোরণ নির্মাণ শুরু করলে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়ায় কর্মী-সমর্থকরা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামান সরকার এবং ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান আসাদ।

প্রশাসনের মধ্যস্থতায় সংঘাত এড়াতে দুই পক্ষ তোরণ আলাদা স্থানে সরাতে রাজি হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক পক্ষ শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে এবং অপর পক্ষ আলহাজ্ব মোড়ে তোরণ স্থাপন করে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামান সরকার নিশ্চিত করেন যে, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে আপাতত পরিস্থিতি শান্ত করা সম্ভব হয়েছে। তবে তোরণ নিয়ে বিবাদ মিটলেও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পৃথক কর্মসূচি পালন নিয়ে দুই পক্ষের বড় সংঘাতের আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছে ঈশ্বরদীবাসী।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সাত বছর পর গত ২২ আগস্ট জেলা বিএনপি ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর কমিটির অনুমোদন দেয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদারকে আহ্বায়ক ও শরিফুল ইসলাম তুহিনকে সদস্য সচিব করে উপজেলা এবং মাহবুবুর রহমান পলাশকে আহ্বায়ক ও ইমরুল কায়েস সুমনকে সদস্য সচিব করে পৌর কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু এই কমিটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই পদবঞ্চিতদের মধ্যে মারাত্মক ক্ষোভ দেখা দেয় এবং দুই দফায় ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়।

আরও পড়ুন

×