ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্ত্রীর মাথা ও হাতে শতাধিক সেলাই, সাবেক জাসাস নেতা জনিকে গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

স্ত্রীর মাথা ও হাতে শতাধিক সেলাই, সাবেক জাসাস নেতা জনিকে গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম
×

ছবি-সংগৃহীত

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ | ০৩:০১

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে যৌতুকের দাবিতে শ্রাবণী আক্তারের (২৩) মাথা ও হাতে নৃশংসভাবে কোপানোর ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি জমির উদ্দীন সরকার জনিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

গতকাল রোববার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের সবরিতলা এলাকায় এই অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় শ্রাবণী আক্তারের বাবা ছামছুল ইসলাম ও মা মোর্শেদা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, নৃশংস এই ঘটনায় থানায় লিখিত মামলা হলেও প্রধান আসামি জনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করছে না। তাই তারা আসামির দ্রুত গ্রেপ্তার দাবিতে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন। 

অবরোধ চলাকালে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। খবর পেয়ে পলাশবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে এলে বিক্ষুব্ধ জনতা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেয়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করেন তারা।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে পলাশবাড়ী উপজেলার আমবাড়ী গ্রামের আনছার আলীর ছেলে ও উপজেলা জাসাসের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জনি মিয়ার সঙ্গে শ্রাবণীর বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য শ্রাবণীর ওপর বিভিন্ন সময়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন জনি।

সর্বশেষ ৯ আগস্ট গভীর রাতে পলাশবাড়ী পৌরসভার গৃধারীপুর এলাকায় যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করলে শ্রাবণীর ওপর চড়াও হন জনি। একপর্যায়ে তাঁকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। এতে ব্যর্থ হয়ে বঁটি দিয়ে শ্রাবণীর মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপান জনি। পরে রক্তাক্ত ও মৃতপ্রায় অবস্থায় শ্রাবণীকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান জনি এবং সেখানে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বলে ভর্তি করিয়ে সটকে পড়েন।

হাসপাতালে মৃত্যু থেকে বেঁচে ফেরা শ্রাবণী বর্তমানে অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে বাবার বাড়িতে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় শ্রাবণীর বাবা ছামছুল ইসলাম বাদী হয়ে জনিকে একমাত্র আসামি করে পলাশবাড়ী থানায় যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন।

অভিযুক্ত জাসাস নেতা জনির দলীয় পরিচয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক খান মোহাম্মদ কাওসার ওয়াহিদ সুজন বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে প্রায় দুই মাস আগে জনিকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বর্তমানে সংগঠনের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই।

মামলার অগ্রগতির বিষয়ে পলাশবাড়ী থানার সেকেন্ড অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েল বলেন, ‘বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পুলিশের আশ্বাসে সড়ক অবরোধ তুলে নিয়েছেন। অভিযুক্ত আসামি জনিকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান ও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

আরও পড়ুন

×