ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জগন্নাথপুরে তীব্র লোডশেডিং, ভাদ্রের গরমে ভোগান্তি

জগন্নাথপুরে তীব্র লোডশেডিং, ভাদ্রের গরমে ভোগান্তি
×

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ | ১২:২৯

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় আবারও বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং শুরু হয়েছে। ভাদ্রের ভ্যাপসা গরমের মাঝে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে গত শনিবার রাত থেকে গতকাল রোববার বিকেল পর্যন্ত দফায় দফায় লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে ।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সাম্প্রতিকালে জগন্নাথপুরে লোডশেডিং অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। মাঝে কিছুদিন লোডশেডিংয়ের মাত্রা কিছুটা কমে আসায় জনজীবনে স্বস্তি ফিরলেও, গত শনিবার রাত থেকে হঠাৎ করে আবার পুরোনো রূপে ফিরেছে লোডশেডিং। এতে একদিকে মানুষের দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

পৌরশহরের স্থানীয় নাগরিক জুয়েল মিয়া তাঁর দুর্ভোগের কথা জানিয়ে বলেন, ‘অসহনীয় গরম আর বিদ্যুতের ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি। দিনে ও রাতে কখন বিদ্যুৎ যায় আর কখন আসে তার কোনো ঠিক নেই। এই দুর্ভোগ থেকে কবে পরিত্রাণ পাব জানি না।’ 

উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শাহিদুল ইসলাম বকুল  জানান, তাঁর  এলাকায় বর্তমানে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।  

কলকলিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রফিক মিয়া জানান, তাঁর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে দিনের প্রায় অর্ধেক সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। লোডশেডিংয়ের কারণে জনসাধারণকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। 

উপজেলার রানীগঞ্জ বাজারের সিটি ব্যাংক এজেন্ট গোলাপ সারোয়ার জানান, লোডশেডিং বর্তমানে সহনীয় মাত্রার বাইরে চলে গেছে। লোডশেডিংয়ের কারণে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের টাকা সময় মতো পেমেন্ট দেওয়া ষাচ্ছে না। ফলে গ্রাহকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।    

জগন্নাথপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আফছর উদ্দিন ভুইয়া জানান, লোডশেডিং হওয়ায় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিতভাবে কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। এতে মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।  

জগন্নাথপুর উপজেলা আবাসিক (বিদ্যুৎ) প্রকৌশলী আজিজুল ইসলাম আজাদ বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে আমাদের চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ বরাদ্দ অনেক কম পাওয়া যাচ্ছে। জগন্নাথপুরে প্রতিদিন ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা পাওয়ার থাকলেও সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে সাড়ে তিন থেকে চার মেগাওয়াট। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় বাধ্য হয়ে আমাদের বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বরাদ্দ খানিকটা বাড়ালে লোডশেডিং সহনীয় মাত্রায় আনা সম্ভব হবে।  

আরও পড়ুন

×