রংপুরে ৪ খুন
মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ দাসের ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি: পুলিশ
ছবি: ফাইল
মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ | ১৬:৩২ | আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৬ | ২০:৫৭
রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের শরীরে মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ডোপ টেস্টের পর সোমবার দুপুরে এ তথ্য জানান রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
তিনি জানান, সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস মাদক সেবন করেছিলেন কিনা, তা জানতে তাদের ইউরিন, রক্ত, চুলসহ চার ধরনের নমুনা পরীক্ষার অনুমতি চেয়েছিল পুলিশ। আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর রোববার ডিবি পুলিশের একটি দল রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের সহায়তায় নমুনা সংগ্রহ করে।
তবে রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাবরেটরিতে শুধু ইউরিন পরীক্ষা করা হয়। এ কারণে দুই আসামির ইউরিনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে।
ডিবির উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, 'বিজ্ঞ আদালতে স্বীকরোক্তি দিয়েছিল সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। তাদের নমুনা আমরা রংপুর মেডিকেল কলেজের মাধ্যমে নিয়েছিলাম। আজ সেই নমুনার ফলাফল আমরা পেয়েছি। সেখানে মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।'
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'আমরা অনেকবার বলেছি বিষয়টা। ইয়াবা তারা সেবন করেছে, এটা তাদের দাবি ছিল। আমরা ওখানে কিছু আলামত পেয়েছিলাম। ১০ দিন পর এই ইয়াবার নমুনা পাওয়া সম্ভব কিনা, আপনারা এক্সপার্টদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।'
তিনি আরও বলেন, 'নমুনা নেওয়া একটা দীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়ার বিষয় ছিল। কারণ, তারা জেল হাজতে আছে। আমরা আগেই আবেদন করেছিলাম। আবেদন করা, তারপর অনুমতি পাওয়া এবং স্যাম্পল নেওয়া, এর মধ্যেই ৮ থেকে ১০ দিনের মতো পার হয়ে যায়। ১০ দিন পরে ইউরিনের মধ্যে এমফিটামিনের অস্তিত্ব পাওয়াটা একটু কঠিন, পাওয়া যাওয়ার কথা না।' এখন ফ্যাক্ট দেখা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে পুলিশ জানিয়েছিলো, ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় এবং সামাজিক সম্মানের ভয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীকে গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর পরিবারের অন্য তিনজনকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এদিন সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস ৮-৯টি ইয়াবা সেবন করেছিল বলে জানায় পুলিশ।
গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় একই এলাকার ও প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।