বিগত ১৭ বছরে স্বাস্থ্যসেবায় কার্যকর কোনো কাজ হয়নি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ছবি: সমকাল
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:৪৪
বিগত ১৭ বছরে জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় কার্যকর কোনো কাজ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে হাসপাতালে শয্যা বাড়ানো হয়নি, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়নি, এমনকি পর্যাপ্ত জনবলও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক-নার্স সংকটসহ নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে।
সোমবার দুপুরে মানিকগঞ্জে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমানে দেশে প্রতি ১১ হাজার মানুষের বিপরীতে মাত্র একজন চিকিৎসক রয়েছেন। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও নার্সের সংকট রয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতির কারণেও স্বাস্থ্য খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে আগের সরকারের সময়ের কেনাকাটা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ফরিদপুর ও বরিশালে দুটি এমআরআই মেশিন পড়ে থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে এসব মেশিন মানুষের চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এক একটি মেশিন ১৮ কোটি টাকা করে কিনেছে। আর এই মেশিনগুলো স্থাপন করতে বাঙ্কার লাগে, সেগুলোও করেনি তারা। মেশিনগুলোর বর্তমানে দাম ১১ থেকে সাড়ে ১১ কোটি টাকা। তারা এই মেশিন থেকে সাত কোটি টাকা করে চুরি করেছে। মেশিনগুলো যেভাবে আনা হয়েছিল, এখনো সেভাবেই পড়ে আছে। জনবল না থাকলেও আগের সময়ে বিপুল অর্থ ব্যয়ে অনেক চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়েছে।
কিডনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা সহজ করতে চলতি বছরের মধ্যেই ডায়ালাইসিস মেশিন বাড়ানোর ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি করে এবং জেলা হাসপাতালগুলোতে ১০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন দেওয়া হবে। এ জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। যাতে মানুষকে কষ্ট করে ডায়ালাইসিসের জন্য ঢাকায় যেতে না হয়, সেজন্য আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।
মতবিনিময় সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মাদক, ধর্ষণ এবং অনলাইন-অফলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, এসব অপরাধ সমাজ থেকে নির্মূল করতে হবে। মাদকের দিকে মানুষের ঝুঁকে পড়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এসব অপরাধে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় খাদ্যমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আফরোজা খানম, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌসুঁলি (পিপি) নূরতাজ আলম বাহার প্রমুখ বক্তব্য দেন। সভায় জেলার সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
- বিষয় :
- স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- স্বাস্থ্য খাত