ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তৃতীয় দফা বাঁধে ভাঙন, বিপর্যস্ত ২০ গ্রামের বাসিন্দা

তৃতীয় দফা বাঁধে ভাঙন, বিপর্যস্ত ২০ গ্রামের বাসিন্দা
×

হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর কালীগঞ্জ পয়েন্টে তৃতীয় দফা ভাঙন। গতকাল সোমবার তোলা সমকাল

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:০৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

দুই মাসও পার হয়নি, এর মধ্যে তিনবার পানিতে তলিয়ে গেছে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের বিশাল অংশ। সংকটের মুখে পড়েছে চরহামুয়া, সুঘর, নোয়াবাদ, বনগাঁও, বনদক্ষিণ, পূর্ব সুলতানশী, আদ্যপাশাসহ অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষের জীবন-জীবিকা। একবার ঘর গোছানোর আগে দুয়ারে আরেকবার পানি, একবার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগে আবার নতুন করে সর্বনাশ– এমনই এক দুর্বিষহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে লস্করপুরে।

দুবার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পর গত শুক্রবার তৃতীয় দফায় ওই ২০টি গ্রামে আবারও পানি প্রবেশ করেছে। স্থানীয়দের মতে, খোয়াই নদীর কালীগঞ্জ বাঁধে পরপর দুবার ভাঙন দেখা দেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দুবার বাঁধ ভেঙে এলাকার ফসলি জমি, মাছের ঘের, রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি তলিয়ে গিয়ে শত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফলে অনেক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেকে ঘরবাড়ি মেরামত করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন, আবার অনেকে ঘর গোছাতে পারেননি, তাদের দুয়ারে পানি আবারও চলে এসেছে।
স্থানীয়রা জানান, গত ৯ জুলাই ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে কালীগঞ্জ বাঁধ ভেঙে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়। পানি শুকিয়ে আসলে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করে। দীর্ঘ দেড় মাসেও মেরামতের কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। ফলে দ্বিতীয়বার গত ২৩ আগস্ট বাঁধটি ফের ভেঙে যায়। এতে এসব এলাকা পানিতে তলিয়ে গেলে তারা ক্ষতির মুখে পড়েন। সর্বশেষ শুক্রবার খোয়াই নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তৃতীয়বারের মতো আবারও ওই এলাকায় পানি প্রবেশ করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও অনিয়মের কারণে বাঁধটি বার বার ভাঙনের কবলে পড়ছে। মেরামত কাজে ধীরগতি থাকায় তাদের দ্বিতীয়বার ভাঙনের মুখে পড়তে হয়েছে। এখন নদীতে পানি আসলে এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। তাই এবার তারা বাঁধ মেরামতের আশ্বাস নয়, স্থায়ী সমাধান চান।

সুঘর গ্রামের সুমন মিয়া বলেন, পর পর দুবার একই জায়গায় বাঁধ ভেঙেছে। এতে ধান ও শাকসবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে। রাস্তাঘাট ভেঙে যাওয়ায় চলাচলেও দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
চরহামুয়া গ্রামের আবদুল হক বলেন, প্রথমবার বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বন্যার কবলে পড়েন অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ। এতে অনেকের ঘরবাড়ি ভেঙে যায়। এসব ঘরবাড়ি মেরামত করার আগে আবারও বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করে। ঘরবাড়ি মেরামত করার আর সুযোগ হয়নি। বনদক্ষিণ গ্রামের আলতাব মিয়া বলেন, ‘আমরা বর্তমানে অসহায় হয়ে পড়েছি। বাঁধ ভাঙার কারণে তৃতীয়বারের মতো পানিবন্দি হয়ে পড়েছে গ্রামগুলো। বাঁধ মেরামতে ধীরগতির কারণে এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে।
যদিও বর্ষার মৌসুম থাকায় বৃষ্টিপাত এবং সঠিক সময়ে মাটি সংগ্রহ করতে না পারায় বাঁধ মেরামতে বিলম্ব হওয়ার কথা জানান সংশ্লিষ্টরা। এর আগে গত মঙ্গলবার বাঁধ পরিদর্শনে এসে স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। তিনি ১৫ দিনের মধ্যে বাঁধ মেরামতে স্থানীয় কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, বাঁধটি দ্রুত সময়ে মেরামতের চেষ্টা চলছে। বর্তমান সময় প্রতিদিন বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বাঁধ মেরামতে বিলম্ব হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×