দশ টাকার চরকিতে ঘোরে জীবনের চাকা
কাগজের চরকি বিক্রি করছে রবিউল। সোমবার ঈশ্বরদীর স্টেশন রোড থেকে তোলা সমকাল
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
একটু বাতাসেই চরকির ছোট ছোট পাখাগুলো ঘুরে ওঠে। বাতাসের সঙ্গে রঙিন পাখাগুলো ঘুরতে দেখে শিশুর মুখে খুশির ঝিলিক পড়ে। এই চরকি ঘুরিয়ে শিশুরা যেমন আনন্দিত হয় তেমনি চরকি ঘুরিয়ে নিজের জীবনের চাকাও ঘোরায় কিশোর বয়সী রবিউল ইসলাম। লাল, নীল, বেগুনি, হলুদসহ নানান রঙের রঙিন কাগজে নিজ হাতে তৈরি করা চরকি নিয়ে প্রতিদিন পথ থেকে পথে ঘুরে বেড়ায় রবিউল। প্রতিটি চরকি মাত্র ১০ টাকায় বিক্রি করে দিন শেষে যা আয় হয় তা দিয়ে পরিবারে থাকা মা-বাবা, ভাই-বোনদের মুখেও হাসি ফোটানোর প্রাণান্তকর চেষ্টা তার।
নওগাঁ জেলার আত্রাইয়ের গ্রামে বসবাস রবিউলের। সেখান থেকে চরকি সাজানো বোঝা নিয়ে কখনও ট্রেনে, কখনও বাসে চেপে সে আসে ঈশ্বরদী, পাবনা, ভেড়ামারাসহ বিভিন্ন শহর ও গ্রামে। চরকি নিয়ে ঈশ্বরদীসহ বিভিন্ন শহরের এ পথ ও পথে দিনভর ঘুরে বেড়ায় রবিউল। চরকি বিক্রি করেই চলে তার সংসার। চলতি পথে শহরের স্টেশন রোডে দেখা হয় রবিউলের সঙ্গে। হাঁটতে হাঁটতেই কথা হয় তার সঙ্গে।
রবিউল জানায়, তিন ভাইবোনের মধ্যে সে বড়। তার বাবা শহিদুল ইসলাম পেশায় একজন দিনমজুর। কখনও মাঠে কাজ করে আবার কখনও খাল-বিলে মাছ ধরে চলে তাদের সংসার। বাবার অভাবের সংসারে পড়ালেখা করা হয়নি তার। আশপাশের কয়েক বাড়িতে এই চরকি বানানো দেখে সেও একসময় চরকি বানানো নিজের আয়ত্তে আনে। এখন সে টুকরো কাগজ সংগ্রহ করে নিজেই চরকি বানায়। নিজেই বিক্রি করে। গত ৪ বছর ধরে চলছে তার এই পথচলা।
এখনকার শিশুরা মোবাইলের গেম আর কার্টুন দেখে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। আগের শিশুদের মতো এখনকার শিশুরা চরকি ঘোরানোয় তেমন একটা অভ্যস্ত নয়। এ ছাড়া শহর ও গ্রামে-গঞ্জে আগের মতো মেলা না হওয়ায় চরকি বিক্রেতাদেরও আয়ে টান পড়েছে। রবিউলের ভাষ্য, গ্রামে মেলার আয়োজন হলে চরকি বিক্রি ভালোই হয়। কিন্তু এখন আগের মতো গ্রামে বা শহরে মেলাও তেমন একটা হয় না, ফলে পথে পথে ঘুরে ঘুরেই বিক্রি করতে হয় চরকি। দিন শেষে ৫০০-৬০০ টাকার বেশি বিক্রি হয় না। খরচ বাদ দিলে ৩০০ টাকার বেশি আয় করা দুরূহ হয়ে পড়ে। এই নিয়েই জীবনের চাকা ঘোরানোর চেষ্টা তার।
রবিউলের প্রতিবেশী রহমত আলী বলেন, ছেলেটি খুব শান্তশিষ্ট। নিজের নিপুণ হাতে কাগজ কেটে চরকি বানায়। সারাদিন চরকি বিক্রি করে যে সামান্য আয় হয় তা দিয়ে পরিবারকে সাহায্য করার চেষ্টা করে।
পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ফারুক হোসেন বলেন, যে বয়সে ছেলেটির পড়ালেখা করার কথা, সে সময়ে পরিবারের হাল ধরতে হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- টাকা