ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উত্তর চট্টগ্রামে অস্ত্র শনাক্তে ড্রোন, আর্মড পুলিশ ক্যাম্প

উত্তর চট্টগ্রামে অস্ত্র শনাক্তে  ড্রোন, আর্মড পুলিশ ক্যাম্প
×

 আহমেদ কুতুব, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২১

| প্রিন্ট সংস্করণ

উত্তর চট্টগ্রামের ‘ক্রাইম জোন’খ্যাত তিন উপজেলার ১৫টি স্পর্শকাতর স্থানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অস্ত্র ও বিস্ফোরক শনাক্ত করবে থার্মাল ড্রোন। সঙ্গে সঙ্গে সেই সিগন্যাল চলে যাবে পুলিশের মোবাইল ফোনে। ফটিকছড়ি, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া–এই তিন উপজেলার সীমানায় চিহ্নিত কোনো সন্ত্রাসী প্রবেশ করলে সেই তথ্যও পুলিশ জেনে যাবে ড্রোনের মাধ্যমে। উপজেলাগুলোর প্রবেশ ও বের হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আকাশ থেকে ড্রোন সন্ত্রাসীদের ওপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাবে। 

শুধু ড্রোন ব্যবহার নয়; মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পাহাড়, নদীর পাড়সহ সন্দেহজনক সব জায়গায় মাটির ৬ ফুট নিচ পর্যন্ত অস্ত্রের খোঁজে চলছে তল্লাশি। পার্বত্য চট্টগ্রামের গহিন পাহাড় থেকে অবাধে তিন উপজেলায় অপকর্ম করতে আসা সন্ত্রাসীদের প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তঘেঁষা চার পাহাড়ে ক্যাম্প বসাতে যাচ্ছে পুলিশ। 
গত দুই বছরে এই তিন উপজেলায় ৫০ জন খুন হয়েছে এবং ব্যাপক চাঁদাবাজি চলছে। এ পরিস্থিতিতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মহাপরিকল্পনা তৈরি করেছে পুলিশ। সম্প্রতি এ পরিকল্পনার প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এটি বাস্তবায়িত হলে খুন করে পাহাড়ে পালিয়ে যাওয়া এবং পাহাড় থেকে খুন করতে চট্টগ্রামে আসা কঠিন হবে বলে মনে করছে পুলিশ। উত্তর চট্টগ্রামের পাশাপাশি চট্টগ্রাম শহরের মানুষও পেশাদার সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

পুলিশ জানায়, দুই বছর ধরে তিন উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার, বালুমহাল দখল-পাল্টা দখল এবং চাঁদাবাজি নিয়ে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটেছে। শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজি চলছে। চাঁদা না পেলে প্রকাশ্যে গুলির ঘটনা ঘটছে। প্রতিটি ঘটনার পর পুলিশ তৎপর হলে সন্ত্রাসীরা গহিন পাহাড়ে চলে যায়। চাঁদাবাজদের অস্ত্রও গহিন পাহাড়ে থাকা সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছে জমা রাখা হয়। পাহাড়ে লুকিয়ে রাখা একে-৪৭, এসএমজির মতো ভারী অস্ত্র নিয়ে এসে অপকর্ম করে নিরাপদেই সন্ত্রাসীরা পাহাড়ে চলে যায়। সন্ত্রাসীদের এমন তৎপরতা বন্ধ করতে মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবে চারটি চিহ্নিত পাহাড়ি রুটে বসানো হচ্ছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ক্যাম্প। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সীমান্তঘেঁষা দুই পাহাড়ে দুটি, রাউজানের সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ে একটি ও ফটিকছড়ির পাহাড়ে একটি ক্যাম্প বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যের হাতে থাকবে ভারী অস্ত্র। প্রতিটি ক্যাম্পে ৫৫ পুলিশ সদস্য থাকবে। তিন উপজেলার প্রবেশ ও বাইরের স্পর্শকাতর স্থাগুলোতে ৩০টি ফেস ডিটেক্টর সিসিটিভি ক্যামেরা, ৫টি ভেহিক্যাল ট্র্যাকার ও দুটি থার্মাল ড্রোন থাকবে। ২৪ ঘণ্টা চলবে নজরদারি।

তিন উপজেলার অপরাধ ডেটা পর্যালোচনা করে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক। তিনি বলেন, ‘দুই বছরে তিন উপজেলায় খুন-পাল্টা খুনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব ও চাঁদাবাজি ছিল নিয়ন্ত্রণহীন। প্রতিটি ঘটনা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, খুন করে সন্ত্রাসীরা গহিন পাহাড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। পরিস্থিতি একটু শান্ত হলে ফের পাহাড় থেকে এসে খুন করে পালিয়ে যায়। অস্ত্রও রাখে পাহাড়ে। সন্ত্রাসীদের পাহাড় থেকে প্রবেশ ও বেরিয়ে যাওয়ার ১৫টি পয়েন্ট চিহ্নিত করেছি। সেখানে থার্মাল ড্রোন, ফেস ডিটেক্টর সিসিটিভি ক্যামেরাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করতে যাচ্ছি। সরকার থেকে সম্মতিও পেয়েছি।’
নাজিমুল হক জানান, কেউ অস্ত্র পরিবহন করলে এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এলাকায় প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে থার্মাল ড্রোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুলিশের কাছে তথ্য পাঠাবে। অভিযান চালিয়ে সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা যাবে। এপিবিএন ক্যাম্পের সদস্যরা ভারী অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করবে। 
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আইনজীবী জাফর ইকবাল সমকালকে বলেন, চট্টগ্রামে তিনটি উপজেলায় সবচেয়ে বেশি রক্ত ঝরছে। অনেক পরে হলেও পুলিশ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্ত্রাসের লাগাম টেনে ধরছে। শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করলে হবে না; ব্যক্তিস্বার্থের চিন্তা না করে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে সফলতা আসবে।

আরও পড়ুন

×