ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ায় ‘চোর সন্দেহে’ যুবককে পিটিয়ে ও রগ কেটে হত্যার অভিযোগ

বগুড়ায় ‘চোর সন্দেহে’ যুবককে পিটিয়ে ও রগ কেটে হত্যার অভিযোগ
×

সড়ক অবরোধ করেন এলাকাবাসী। ছবি: সমকাল

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:০৩ | আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:১৮

বগুড়া সদরের বারপুর এলাকায় শামীম হোসেন (৩৫) নামে এক যুবককে চোর সন্দেহে রাতভর মারধর ও নির্যাতনের পর পায়ের রগ কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ফেলে রাখা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার মরদেহ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করেন এলাকাবাসী। 

নিহত শামীম হোসেন বগুড়া সদর উপজেলার নামুজা ইউনিয়নের চৌমহনী এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, এ হত্যাকাণ্ডে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতা ও তার ছেলেসহ কয়েকজন সরাসরি জড়িত। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিহতের শাশুড়ি ছোবেদা বেগম বলেন, এক নিকটাত্মীয়ের দাফনে অংশ নিতে শামীম বারপুর এলাকায় এসেছিলেন। রাতে দাফন শেষে তিনি সেখানে হাঁটাহাঁটি করার সময় চোর সন্দেহে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ওই নেতা ও তার ছাত্রদলের নেতা ছেলেসহ কয়েকজন আটক করেন। এরপর শামীমকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে পায়ের রগ কেটে গুরুতর আহত অবস্থায় নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ফেলে রাখা হয়।

খবর পেয়ে গ্রাম পুলিশ শামীমকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে শামীমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

অবরোধকারীদের একজন রাকিবুল হাসান বলেন, চোর সন্দেহে শামীমকে পিটিয়ে ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়েছে। শামীম কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×