যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর ও আটকে রাখার অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে
ফাইল ছবি
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬:১২ | আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬:৪৫
যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নিয়মিত মারধর করে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে মায়ের জিম্মায় দিয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার বাড়ি থেকে পুলিশ তার স্ত্রীকে উদ্ধার করে।
ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামে।
অভিযুক্ত সাহেদ তালুকদার (২৩) টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ড. এমদাদুল হক মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও বাঁশবাড়িয়া গ্রামের হেদায়েত শেখের ছেলে। এ ঘটনায় সাহেদ তালুকদার ও তার মা-বাবাকে অভিযুক্ত করে টুঙ্গিপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন শাশুড়ি জেসমিন বেগম।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রেমের সম্পর্কের সুবাদে ২০২৫ সালের ২৬ মে গোপালগঞ্জ আদালতের নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বাঁশবাড়িয়া গ্রামের হেদায়েত তালুকদারের ছেলে ও কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সাহেদ তালুকদারের সঙ্গে লেবুতলা গ্রামের মৃত আনসার শেখের মেয়ে বর্ণা খানমের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় স্ত্রীকে মারধর করে শাশুড়ির কাছে যৌতুক চাইতেন সাহেদ। সেটা দিতে অস্বীকার করায় সাহেদ ও তার পরিবারের লোকজন স্ত্রী বর্ণা খানমকে মারধর শুরু করেন। মেয়ের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন সময় নগদ টাকা দেন শাশুড়ি। পরে গত ২৯ আগস্ট শাশুড়ি জেসমিন বেগম ও বোন কল্পনা বেগম সাহেদের বাড়ি থেকে বর্ণাকে আনতে গেলে তাদের সামনেই তাকে মারধর করে আটকে রাখেন।
সাহেদের শাশুড়ি জেসমিন বেগম বলেন, ‘ওরা নিজেরা কোর্ট ম্যারেজ করেছিল। বিয়ের পর থেকেই জামাই কথায় কথায় টাকা দাবি করে। আগে অনেক টাকা-পয়সা দিয়েছি, কিন্তু এখন আর দিতে পারি না। টাকা না পেলেই আমার মেয়েকে মারধর করে। মেয়েকে আনতে গেলে আমাকেও গালাগালি করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এসব কারণে যদি আমার মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়, তাহলে সে দায় কে নেবে? আমি আর ওর কাছে মেয়ে দেব না।’
সাহেদের স্ত্রী বর্ণা খানম বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই সাহেদ সব সময় আমার কাছে টাকা-পয়সা চাইত। এমনকি আমার বাবার বাড়ি থেকেও অনেকবার টাকা চুরি করেছে। বিয়ের দেড় বছরের মধ্যে আমাকে এক টুকরো সুতাও কিনে দেয়নি। সাহেদ নিয়মিত নেশা করে আমাকে মারধর করে। কোনো কাজ না করে শুধু টাকা চায়, আর না দিলে বিএনপির দলীয় পদের পাওয়ার (ক্ষমতা) দেখায়। কয়েক দিন আগেও আমার মা ও বড় বোনের সামনে আমাকে বেধড়ক মারধর করে আটকে রেখেছে। আমি ওর সঙ্গে সংসার করতে চাই না।’
বর্ণার বড় বোন কল্পনা খানম বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ মারধরের খবর পেয়ে মা আর আমি ছোট বোন বর্ণাকে আনতে গেলে তাকে মারধর করে আটকে রাখে। আর চরম খারাপ ব্যবহার করে আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে বাধ্য হয়ে আমার মা টুঙ্গিপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তখন পুলিশ গিয়ে আমার বোনকে উদ্ধার করে মায়ের জিম্মায় দিয়ে যায়।
সাহেদ তালুকদার বলেন, ‘আমি কখনো শাশুড়ির কাছে যৌতুক দাবি করিনি। আর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হওয়ায় কখনো কখনো বেশি কথা বলেছি। তারা আমার সংসার ভাঙার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। পুলিশ এসে আমার স্ত্রীকে তার মায়ের জিম্মায় দিয়েছে। আইনি ও সামাজিকভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করব।’
টুঙ্গিপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল ইসলাম বলেন, ‘লিখিত অভিযোগের পর প্রাথমিকভাবে বর্ণাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করে তার মা জেসমিন বেগমের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। পরে তদন্ত করে ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
- বিষয় :
- টুঙ্গিপাড়া
- ছাত্রদল