বরযাত্রীর গাড়ি থেকে তুলে নেওয়া সেই নববধূ বললেন, গেলেগাও কোনো লাভ নাই, এইহানেই থাকব
আতিকুর রহমান মিয়াদের পরিবারের সঙ্গে তামান্না আক্তার (মাঝে)। ছবি-সমকাল
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:১৭ | আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:১৩
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে নববধূকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। পুরোনো প্রেমিক পরিচয়ে ছাত্রদলকর্মী আতিকুর রহমান মিয়াদ ২০-২৫ জন যুবক নিয়ে বরের মাইক্রোবাসের গতিরোধ করে নববধূ তামান্না আক্তারকে নিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে। প্রথমে ঘটনাটি অপহরণ মনে হলেও এখন তামান্না নিজেই দাবি করছেন, তিনি স্বেচ্ছায় মিয়াদের বাড়িতে গেছেন।
সোমবার রাতে মিয়াদের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ধারণ করা এক ভিডিও বক্তব্যে তামান্না বলেন, ‘গেলেগাও কোনো লাভ নাই। আমি আইছি, এইহানেই থাকব।’ বর্তমানে তিনি মিয়াদের বাড়িতেই রয়েছেন। তাঁর পরিবারও বিষয়টি মেনে নিয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে নববধূকে নিয়ে যাওয়ার পর মিয়াদ তাঁর ফেসবুকে লেখেন, ‘জীবনে আর কিছু চাওয়ার নাই....!’
ঘটনার বিষয়ে হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, নববধূকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর বরের পক্ষ থেকে থানায় একটি প্রাথমিক অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। কনে পক্ষও অপেক্ষা করছিল, কোনো পক্ষ মেয়েটিকে গ্রহণ করে কি না। কেউ গ্রহণ না করলে মামলা করার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
ওসি বলেন, বরের পক্ষের অভিযোগের পর মিয়াদসহ সংশ্লিষ্টদের আটকের পাশাপাশি তামান্নাকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছিল। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় থানার পক্ষ থেকে বার্তাও পাঠানো হয়েছিল। তবে এখন তামান্নাকে মিয়াদের পরিবার গ্রহণ করে নেওয়ায় তাঁর পরিবার মামলা করবে না বলে জানিয়েছে। তামান্নার সিদ্ধান্ত জানার পর বরপক্ষও আর মামলা করতে আসছে না।
তবে মিয়াদ ও তামান্নার নতুন করে বিয়ে হয়েছে কি না কিংবা আগের স্বামীর সঙ্গে তামান্নার তালাকের কোনো প্রক্রিয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানে না বলে জানান ওসি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হোসেনপুরের সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে তামান্না আক্তারের সঙ্গে রোববার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের জিলু মিয়ার ছেলে আক্তার মিয়ার। সন্ধ্যায় বরপক্ষ কনেকে মাইক্রোবাসে করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছিল।
পথে হোসেনপুরের জিনারী ইউনিয়নের হাজীপুর বাজারের কাছে তামান্নার পুরোনো প্রেমিক পরিচয়ে আতিকুর রহমান মিয়াদ ২০-২৫ জন যুবক নিয়ে মাইক্রোবাসটির গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ। এ সময় গাড়ি ভাঙচুর ও বরকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তামান্নাকে নিয়ে মিয়াদ ও তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন চলে যান। এরপর থেকেই তিনি মিয়াদের বাড়িতে রয়েছেন।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট গাজী এনায়েতুর রহমান বলেন, পারিবারিকভাবে বিয়ে হওয়ায় নিকাহ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে আগের বিয়েটি নিবন্ধিত হয়ে থাকলে আইনগতভাবে তালাক না হওয়া পর্যন্ত সেই বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকবে। নতুন করে বিয়ে করতে হলে আগের বিয়ের আইনগত নিষ্পত্তি প্রয়োজন। তালাকের নোটিশ দেওয়ার পর নির্ধারিত সময় পার না হওয়া পর্যন্ত নতুন বিয়ের বিষয়েও আইনগত জটিলতা থাকতে পারে।
এদিকে হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু নাঈম বলেন, আতিকুর রহমান মিয়াদ ছাত্রদলের কোনো নেতা নন। কোনো পর্যায়ের কমিটিতেও তাঁর নাম নেই। তাঁর সঙ্গে মিয়াদের পরিচয়ও নেই। ফলে তাঁর কোনো কর্মকাণ্ডের দায় ছাত্রদল নেবে না।