মধুখালীতে চুরির অপবাদে হাত-পা, চোখ-মুখ বেঁধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ
প্রতীকী ছবি- সংগৃহীত
ফরিদপুর অফিস
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০১:২০
ফরিদপুরের মধুখালীতে চুরির অপবাদ দিয়ে তাওহিদ শেখ নামে ১৪ বছরের এক শিশুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি মুড়ি কারখানার মালিক ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে। শিশুটির ভাষ্যমতে, তার হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে লোহার পাইপ দিয়ে বেধড়কভাবে পেটানো হয়েছে। বর্তমানে আহত অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহত শিশুটি উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের নওপাড়া কুরানিয়ার চর এলাকার রুবেল শেখের বড় ছেলে। শিশুটি স্থানীয় বাজারের একটি ফার্নিচারের দোকানের কর্মচারী। গত রোববার রাতে ওই এলাকার মায়ের দোয়া মুড়ির কারখানার ছাদে শিশুটিকে নির্যাতন করা হয় বলে পরিবারটি অভিযোগ করেন। তাদের অভিযোগ, ওই মিলের মালিক ও সাবেক সেনা সদস্য ইশারত মোল্যা (৫৫) এবং তাঁর ছেলে মুন্না মোল্যা (২২) নির্যাতন করেন। তারা রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত নির্যাতন করে নিচে ফেলে রাখে। পরে রাত সাড়ে ১২টার সময় আহত অবস্থায় শিশুটিকে খু্ঁজে পায় পরিবারের সদস্যরা। পরে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শিশুটি ক্যাজুয়ালটি ও নিউরোসার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন। এ সময় শিশুটির ভাষ্যমতে, মুড়ির মিল-সংলগ্ন তাদের বাড়িটি। ঘটনার দিন রাত ৯টার দিকে ফার্নিচারের দোকানের কাজ শেষ করে ওই মিলের সামনে দিয়ে বাড়িতে ফিরছিল। ওই সময় মুন্না মোল্যা তাকে ডেকে দ্বিতীয়তলার ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে ইশারত মোল্যাও আসে। একপর্যায়ে রশি দিয়ে তার হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফেলা হয়। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়– লোহার রড চুরি করছিস কেন? তখন সে অস্বীকার করলে বাধা অবস্থায় লোহার পাইপ দিয়ে বেধড়কভাবে পেটানো হয়।
শিশুটির বাবা রুবেল শেখ অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর জানতে গেলে উল্টা হুমকি দিয়েছে। ইশারত মোল্যা বলেছে, ওরেতো মারছি, তোরেও মেরে ফেলব, আমার কিছুই করতে পারবি না। আমি সবার কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই। এদিকে মারধরের বিষয়ে স্বীকার করে ইশারত মোল্যা বলেন, ওই ছেলেটি এলাকায় বিভিন্ন মালপত্র চুরি করে থাকে। আমার ঘরের কাজের রড চুরি করেছে কিন্তু ধরতে পারি না। ওইদিন ছাদে গিয়ে হাতেনাতে ধরেছি। তখন আমার ছেলে ও দুই ভাতিজা চড়থাপ্পড় দিয়েছে। মানবতা দেখিয়ে পুলিশে দিইনি, এখন দেখতেছি পুলিশে দেওয়াই ভালো ছিল।’
এ বিষয়ে মধুখালী থানার ওসি সুকদেব রায় বলেন, ‘শিশু নির্যাতনের কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে এমন ঘটনা ঘটে থাকলে এবং পরিবার অভিযোগ দিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
- বিষয় :
- শিশুকে নির্যাতন