ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

‘হা হা’ প্রতিক্রিয়ার জেরে শিক্ষার্থীর সনদ আটকানোর অভিযোগ

‘হা হা’ প্রতিক্রিয়ার জেরে শিক্ষার্থীর সনদ আটকানোর অভিযোগ
×

ছবি- সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০১:৪৪

হোয়াটসঅ্যাপে শিক্ষকের বার্তায় ‘হা হা’ প্রতিক্রিয়া জানানোকে ‘অশোভন আচরণ’ উল্লেখ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এক শিক্ষার্থীর সনদ আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম মুজিবুর রহমান। তিনি মার্কেটিং বিভাগের এমবিএ ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগারের সই করা একটি অভিযোগ রেজিস্ট্রার দপ্তরে জমা দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাশিয়াত যাহিন শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগটি বিভাগীয় প্রধানকে জানান। পরে বিষয়টি একাডেমিক সভায় উত্থাপন করা হয়। সভায় উপস্থিত শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে বিষয়টি রেজিস্ট্রারের কাছে জানানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, মুজিবুর রহমান ইন্টার্নশিপ কার্যক্রমে যথাযথ মনোযোগ ও আন্তরিকতা প্রদর্শন করেননি। তিনি নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে ইন্টার্নশিপ প্রতিবেদন জমা দেন। এর পরও শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয়। প্রচলিত মূল্যায়ন পদ্ধতি ও প্রতিবেদনের গুণগত মানের ভিত্তিতে তাঁকে নম্বর দেওয়া হয়। ফল প্রকাশের পর মুজিবুর শিক্ষককে জানান, তিনি ইন্টার্নশিপে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এ সময় তিনি ব্যঙ্গাত্মক ও শিষ্টাচারবহির্ভূতভাবে শিক্ষককে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, তিনি তাঁকে মনে রাখবেন। পরে শিক্ষক ওই বক্তব্যের জবাব দিলে শিক্ষার্থী তাতে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেন। অভিযোগপত্রে এই প্রতিক্রিয়াকে শিক্ষকের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সহযোগী অধ্যাপক মাশিয়াত যাহিন বলেন, ‘যে ঘটনাটি ঘটেছে, আমার মনে হয়েছে বিষয়টি যথাযথ প্রক্রিয়ায় জানানো উচিত। সঠিক চ্যানেল অনুসরণ করে বিভাগীয় প্রধানের মাধ্যমে আমি রেজিস্ট্রার বরাবর বিষয়টি জানিয়েছি। এর পরবর্তী বিষয়ে আমি অবগত নই।’

শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান বলেন, ‘সনদ নিতে বিভাগে আসার পর সিআরের মাধ্যমে অফিস থেকে আমাকে ফোন দিয়ে বলা হয়, আমি যেন তা না তুলি। বিভাগের সঙ্গে বিষয়টি ক্লিয়ার না করা পর্যন্ত সনদ দেওয়া হবে না।’

পরে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বিভাগে গিয়েছি, কিন্তু চেয়ারম্যানকে পাইনি। পরে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, রেজিস্ট্রার অফিসে অভিযোগ আছে। অভিযোগের বিষয়টি শেষ হলে তারা আমাকে জানাবেন, সনদ নেওয়ার ক্ষেত্রে আমার কী করতে হবে।’ ‘হা হা’ প্রতিক্রিয়াকে ‘অশোভন আচরণ’ হিসেবে গণ্য করা যায় কিনা– এমন প্রশ্ন তোলেন মুজিবুর। 

এ বিষয়ে মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেহের বলেন, ‘মুজিবুর কোর্স টিচারের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে। কী ঘটেছিল, সেটা তার কোর্স টিচারই ভালো বলতে পারবেন। রেজিস্ট্রার দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সনদ আটকানোর বিষয়ে আমি এখনও জানি না। প্রশাসন যে ব্যবস্থা নেওয়ার, তারা সেটা নেবে।’

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘এ রকম কেউ সনদ আটকাতে পারে না। যদি কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, তারা আমাদেরকে সাময়িকভাবে আটকে রাখার জন্য সুপারিশ করতে পারেন।’

রেজিস্ট্রার মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘অভিযোগপত্রটি উপ-উপাচার্যের কাছে পাঠানো হবে। তিনি বিষয়টি দেখবেন।’

আরও পড়ুন

×