ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পদ্মায় আকস্মিক ভাঙন, ঝুঁকিতে ঘরবাড়ি-সড়ক, ফসলি জমি

পদ্মায় আকস্মিক ভাঙন, ঝুঁকিতে  ঘরবাড়ি-সড়ক, ফসলি জমি
×

পদ্মার ভাঙনে ঝুঁকিতে থাকা মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের পশ্চিম গাঁওদিয়া এলাকার একটি পরিবার গতকাল মঙ্গলবার তাদের ঘর সরিয়ে নেয় সমকাল

 লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৪১

| প্রিন্ট সংস্করণ

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম গাঁওদিয়া এলাকায় হঠাৎ করে পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝড়ো হাওয়া, বৃষ্টি, নদীর পানি বৃদ্ধি, প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণিপাকের কারণে নদীতীর অস্থায়ী রক্ষা বাঁধের জিও ব্যাগ সরে গিয়ে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে নদী তীরবর্তী শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে দিন পার করছেন।
ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নদীর পার-সংলগ্ন বাসিন্দারা তড়িঘড়ি করে ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি, সড়ক, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু। এ সময় তিনি জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা সাধ্যমতো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। আপাতত জিও ব্যাগ ও ব্লক ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা যায়, পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি, প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণিপাকের কারণে নদীর তীর ধসে পড়ছে। ভাঙনের আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন। বাসিন্দারা জানান, গত সোমবার সকাল থেকে হঠাৎ নদীর তলদেশে ভাঙন শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই নদী তীরবর্তী বিপুল পরিমাণ জমি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নদীর পার-সংলগ্ন প্রায় ২০০ ফুট এলাকা ভেঙে নদীতে চলে গেছে। এতে আশপাশের বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

পশ্চিম গাঁওদিয়া এলাকার বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, হঠাৎ করে পদ্মার পানির তীব্র স্রোতে পার ধসে পড়তে শুরু করেছে। চোখের সামনে জমি-জমা নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আমাদের ভিটেমাটি হারিয়ে যাবে। আরেক বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, গত সোমবার দুপুর ১২টার পর থেকে ভাঙন শুরু হয়েছে। চোখের সামনে বেশ কিছু জমি জিও ব্যাগসহ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আর একটু এগোলেই সড়কটিও থাকবে না। আমাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা রাবেয়া বলেন, আমাদের শেষ সম্বল বসতভিটা ভেঙে গেলে আমরা কই যামু, কোথায় থাকুম? আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নাই।
গাঁওদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তোবারক ঢালী বলেন, দুপুরে জোয়ারের পানির সঙ্গে প্রায় ২০০ ফুট এলাকা নদীতে ভেঙে গেছে। সকালেও যেখানে শুকনো ছিল, সেখানে এখন বাঁশ ফেলে দেখেছি ৩০ হাতেরও বেশি গভীর হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙন প্রতিরোধে এর আগে ফেলা জিও ব্যাগের একটি অংশ প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণিপাকে সরে যাওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে নতুন করে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানো না গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। পদ্মার ভাঙন থেকে রক্ষা করতে নদীতীরে স্থায়ীভাবে ব্লক স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। 
মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে ভাঙনস্থলে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
 

আরও পড়ুন

×