স্কুলমাঠে ডোবা, আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
দেখে বোঝার উপায় নেই এটি স্কুলের খেলার মাঠ। পাট জাগ দেওয়ায় ডোবায় পরিণত হয়েছে হরিণাকুণ্ডুর কাচারীতোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালযের মাঠটি সমকাল
হরিণাকুণ্ডু (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৪৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ৭ নম্বর রঘুনাথপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর কাছারীতোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির মাঠের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে ডোবা। বছরের অধিকাংশ সময় ডোবাটিতে পানি থাকে। স্কুল মাঠের মধ্যে ডোবা থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে থাকেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, স্কুল মাঠের বিস্তীর্ণ অংশ পানিতে নিমজ্জিত। স্থানীয়রা ডোবার মধ্যে সারি সারি পাট জাগ দিয়ে রেখেছেন। স্কুলের টিফিনের সময়ে ছোট শিশুরা দৌড়ে গিয়ে পাটের জাগে গিয়ে উঠছে। স্কুলটিতে ছয়জন শিক্ষক ও ৯০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। স্কুলে আসা-যাওয়ার অপ্রশস্ত রাস্তার পাশেই ডোবাটির অবস্থান। এতে খেলাধুলা ও স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের ডোবায় পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে দুর্ঘটনার শঙ্কায় সবসময় আতঙ্কে থাকেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলো খেলার মাঠ। দুঃখের বিষয় এখানে মাঠের ভেতরেই এমন বিশাল ডোবা থাকায় সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা। বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়লে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকতে হয় তাদের।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন জানায়, স্কুল মাঠে ডোবা থাকায় তারা খেলাধুলা করতে পারে না। এমনকি স্কুল আঙিনায় ঘুরতেও ভয় হয় তাদের।
পিন্টু আলী নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘বর্ষাকাল এলেই চিন্তা বাড়ে। ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগে ডোবাটি ভরাট করে মাঠটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য উপযোগী করা অথবা ডোবার চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।’
স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যতটা সম্ভব শিক্ষার্থীদের পাহারায় রাখতে চেষ্টা করেন। তবে বর্ষাকালে যখন ডোবাটি পানিতে টইটম্বুর থাকে তখন অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চান না। এ ছাড়া অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও দুর্ঘটনার শঙ্কায় সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়।
উপজেলার রঘুনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান বসির উদ্দিন বলেন, কাছারীতোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের ঝুঁকিপূর্ণ ডোবাটি ভরাট করার বিষয়ে ইতোমধ্যে ইউএনওর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়েছেন। শিগগিরই ডোবাটি ভরাটে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশাবাদী।
হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ্ত রায় দীপন বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। এ বিষয়ে তিনি ইতোমধ্যে ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন। চলতি সপ্তাহে বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
- বিষয় :
- স্কুল