ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বনের আড়াই হাজার গজারি গাছ কেটে কলাবাগান

বনের আড়াই হাজার গজারি গাছ কেটে কলাবাগান
×

ঘাটাইল উপজেলার কাজলা এলাকায় বনের গাছ কেটে কলাবাগান সমকাল

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১২

| প্রিন্ট সংস্করণ

বছর দুই আগেও ঠায় দাঁড়িয়ে ছিল প্রায় আড়াই হাজার গজারি গাছ। গাছগুলো বেড়ে উঠেছিল বনের জমিতে। জমির পরিমাণও কম নয়; প্রায় ২৪ বিঘা। সেই শাল-গজরির বন ধ্বংস করে চাষ করা হচ্ছে কলা। এখানে বন বিভাগ যেন দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে। নিষিদ্ধ গজারি গাছ কাটার ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। দখলদারদের বিরুদ্ধে এখনও নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের লোকজন এমন ঘটনার ক্ষেত্রে বরাবর দিনের বেলায়ও চলেন চোখ বন্ধ করে। ঘটনাটি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার কাজলা এলাকার। 

সরকারিভাবে শাল-গজারি গাছ কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধের মাত্রা এমন যে, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতেও এ গাছ বেড়ে উঠলে তা কাটা যাবে না। কিন্তু কাজলা এলাকার সরকারি বন বিভাগের একই জায়গা থেকে দুই বছর আগে দিনের আলোতেই প্রায় আড়াই হাজার গজারি গাছ কাটা হয়েছে। গাছ কাটা এবং তার মূলোৎপাটনযজ্ঞ চলে মাসখানেক ধরে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গাছগুলো রক্ষায় কোনো ভূমিকাই নিতে দেখা যায়নি বন কর্মকর্তাদের। 

সরেজমিন দেখা যায়, বিশাল কলাবাগানের এক প্রান্তে মাথা উঁচু করে এখনও দাঁড়িয়ে আছে একটি গজারি গাছ। কলাবাগান করায় গাছের গুঁড়ি আগেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কলাগাছ ছাপিয়ে আকাশপানে উঁকি দেওয়া গজারি গাছটি প্রমাণ করে, একদা এখানে ছিল সমৃদ্ধ গজারি বন। স্থানীয়রা জানান, গজারি গাছগুলো কেটেছেন ইকবাল তালুকদার ও আল আমিন। ওই সময় বন বিভাগকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইকবাল তালুকদার উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং আল আমিন লক্ষিন্দর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য। তবে গাছ কাটার বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে দুজনেই তা অস্বীকার করেন। 

আব্দুল মান্নান নামে স্থানীয় এক যুবক বলেন, ওই স্থান এলাকাবাসীর কাছে পরিচিত তালতইলা চালা হিসেবে। বছর দুই আগেও ওখানে ছিল গজারির বিশাল বন। প্রায় আড়াই হাজার গাছ কাটার পর কিছু দিন ছিল বিরান ভূমি। এখন বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে কলাবাগান। গাছগুলো কেটেছেন ইকবাল তালুকদার এবং আল আমিন মেম্বার। তাঁর ভাষ্য, বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সাব্বির হোসাইনকে জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। দীর্ঘদিন ধরে শুধু বলে আসছেন, ওইখানে বাগান করা হবে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বনের যত জমি, এভাবেই বন কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই দখল হয়েছে। 
বনের ওই জমি এখন দখলে রেখেছেন আহম্মদ আলী, মোহাম্মদ আলী ও সাহেব আলী নামে তিন ভাই। দেখভাল করেন তাদের সন্তানরা। কথা হয় আহম্মদ আলীর ছেলে খসরু মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, কাজলা এলাকায় গজারি বন ছিল। গাছ বিক্রির পর কলাবাগান করার জন্য সাইফুল ইসলামের কাছে বিঘাপ্রতি বছরে ৪০ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, ওই জায়গা থেকে ১৪ শতাংশ জমি ফজলুল হক নামে এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর দলিলমূলে পাঁচ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন খসরু মিয়া। ওই জমি বিক্রির কথা স্বীকারও করেন খসরু।  সাইফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল ধরেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি। 

বিপুল সংখ্যক গজারি গাছ কাটায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি– এমন প্রশ্নের জবাবে বন বিভাগের ঘাটাইল ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা সাব্বির হোসাইন সমকালকে বলেন, গাছ কাটা হয়েছে তিনি এখানে যোগদান করার আগে। তবে ওইখানে যে গজারি বন ছিল, তার আলামত তিনি দেখেছেন। ওই জায়গার মালিক বন বিভাগ। জমির পরিমাণ ১৫ বিঘা।
কলাবাগান করার সময় আপনি অবগত হয়েছিলেন কিনা? এর জবাবে বলেন, রাতারাতি কলাবাগান করা হয়েছে। কলাগাছ তো অনেক বড় হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন পার হলেও কেন ব্যবস্থা নেননি? উত্তরে তিনি বলেন, বাগান মালিক শহিদুলকে (এই নামে বাগান 
মালিক নেই) অফিসে এসে দেখা করতে বলা হয়েছিল। তিনি আসেননি। গজারি গাছ কেটে কলাবাগান করা যায় কিনা? তাঁর সোজা উত্তর, কোনোভাবেই এ কাজ কেউ করতে পারেন না। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে বনায়ন করা হবে।
 

আরও পড়ুন

×