বিতর্কের মুখে সভাপতি প্রার্থী সেই নেতাকে সরাল বিএনপি
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির লিখিত নির্দেশনা ছিল, ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়কগণ পরবর্তী সম্মেলনে সভাপতি পদে প্রার্থী হতে পারবেন না। এই নির্দেশনা না মেনে ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব মোর্শেদ খোকন সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। শুধু তাই নয়, যাচাই-বাছাই শেষে তাঁর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে প্রতীকও বরাদ্দ দেওয়া হয়।
বিষয়টি জানাজানি হলে দলের বিভিন্ন মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। জেলা বিএনপির হস্তক্ষেপে সোমবার জরুরি সভা ডেকে খোকনের প্রার্থিতা বাতিল করেছে ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপি।
বিতর্কের এখানেই শেষ নয়। একই সভায় সভাপতি পদের আরেক প্রার্থী আলেফর খানকেও নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও বিএনপিবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের ঘটনার পর সম্মেলন পিছিয়ে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের বদলে নতুন তারিখ অনুযায়ী আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পাইকুরাটি ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই জোড়া প্রার্থিতা বাতিলের ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৫ মার্চ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আহ্বায়ক কমিটি গঠনের লিখিত নীতিমালা প্রকাশ করে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. আবদুল হাই স্বাক্ষরিত সেই নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়, ইউনিয়ন আহ্বায়কগণ সম্মেলনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। এরপর গত বছরের ২০ জুলাই মাহবুব মোর্শেদ খোকনকে আহ্বায়ক করে পাইকুরাটি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয় উপজেলা বিএনপি।
পরে বিষয়টি জেলা বিএনপির নজরে এলে গত শুক্রবার রাতে খোকনের প্রার্থিতার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা বিএনপিকে লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আহ্বায়ক মাহবুব মোর্শেদ খোকনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।অন্যদিকে অপর প্রার্থী আলেফর খান নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কখনোই আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম না। উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আমাকে মৌখিকভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বলা হয়েছে। এটি আমার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র।’
- বিষয় :
- বিএনপি