শিক্ষা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে স্কুলে হামলা বহিরাগতদের
চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২২
| প্রিন্ট সংস্করণ
পাবনার চাটমোহরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে স্কুলে হামলা করেছে বহিরাগতরা। এ সময় তারা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধর করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করে।
গত সোমবার দুপুরে উপজেলার শ্রীদাসখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় জিয়ারুল ইসলাম ও সোহাগ ইসলাম নামের দুজন আহত হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। প্রধান শিক্ষককে প্রকাশ্যে মারধরের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় ওঠে। তবে ঘটনার পরদিন দুপুর পর্যন্ত এ নিয়ে শিক্ষা অফিস বা ভুক্তভোগী শিক্ষকের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সরকারি বিধি অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম সম্প্রতি জাহাঙ্গীর আলমকে সভাপতি ও কয়েকজনকে সদস্য করে কমিটির প্রস্তাব শিক্ষা অফিসে পাঠান। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন সভাপতি আবু সাঈদ ও তাঁর চাচাতো ভাই চাটমোহর সরকারি কলেজের প্রভাষক আব্দুল মালেক এতে ক্ষিপ্ত হন। এমনকি সরকারি বিধিমালার তোয়াক্কা না করে আব্দুল মালেককে সভাপতি করার জন্য চাপ দেন। এতে প্রধান শিক্ষক রাজি না হওয়ায় তারা ইউএনও ও শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের তদন্তে গত সোমবার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম ও আসলাম উদ্দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন।
কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রভাষক আব্দুল মালেক ও আবু সাঈদের নেতৃত্বে শতাধিক বহিরাগত লোক বিদ্যালয়ে হামলা চালায়। একপর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামকে অফিস কক্ষ থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিতে গেলে দুজন আহত হন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
মারধরের শিকার প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কলেজের শিক্ষক হয়েও আব্দুল মালেক ও সাবেক সভাপতি আবু সাঈদ বহিরাগত ক্যাডার এনে কর্মকর্তা ও শিশুদের সামনে আমাকে মারধর করেছেন। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
ঘটনার সময় উপস্থিত সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্তকালে বহিরাগতরা এসে এমন ঘটনা ঘটাবে তা ভাবতেও পারিনি। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চাটমোহর সরকারি কলেজের প্রভাষক আব্দুল মালেক। তিনি বলেন, ‘আমার নাম দাতা সদস্য থেকে বাদ দেওয়ায় ইউএনও স্যারের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। আমি কেবল কাগজপত্র দেখাতে গিয়েছিলাম, মারধরের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নই।’
প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল গণি জানান, শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনা মেনে নেওয়া হবে না। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
- বিষয় :
- শিক্ষা