ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২৯৩ প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে

২৯৩ প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে
×

 ইজাজ আহ্‌মেদ মিলন, গাজীপুর

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুর জেলার ৭৭৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৯৩টিতেই নেই নিয়মিত প্রধান শিক্ষক। কোথাও মাসের পর মাস, কোথাও বছরের পর বছর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম। ফলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজসহ নানা দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে বাড়তি চাপে পড়ছেন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকরা।
একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ের প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনেও নেই পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব। গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ ভূঁইয়া গত ১৩ আগস্ট অবসরে যাওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। একজন সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওই পদে রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন।

গাজীপুর প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৭৭৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন ৪৮৩ জন। ২৯৩টি বিদ্যালয় চলছে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই। সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দিয়েছে গাজীপুর সদর, কালীগঞ্জ ও শ্রীপুর উপজেলায়। সদর উপজেলায় ১৬২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬৩টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। কালীগঞ্জে ১২৯টির মধ্যে ৬৩টি, কাপাসিয়ায় ১৭৯টির মধ্যে ৫৭টি, কালিয়াকৈরে ১২২টির মধ্যে ৪২টি এবং শ্রীপুরে ১৫৫টির মধ্যে ৬২টি বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক। টঙ্গী এলাকায় ১৮টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ছয়টিতেও একই অবস্থা। 
বিশ্লেষণে দেখা যায়, গাজীপুরে প্রায় ৩৮ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই নিয়মিত প্রধান শিক্ষক। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে কাউকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে একই ব্যক্তিকে একদিকে শিক্ষার্থীদের পাঠদান, অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, শিক্ষক-কর্মচারীদের সমন্বয়, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শৃঙ্খলা তদারকি, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এসব কাজের পাশাপাশি নিয়মিত ক্লাস নিতে হওয়ায় অনেক সময় পাঠদানে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।

শ্রীপুর উপজেলার সাইটালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কবিরুল ইসলাম বলেন, সহকারী থেকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করা একটু কঠিন। তবুও ২ বছর ধরে সবার সহযোগিতায় চালিয়ে নিচ্ছি। তাঁর স্কুলে ২৬৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সাতজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও আছেন পাঁচজন। দীর্ঘদিন ধরে দুটি পদ শূন্য। শ্রীপুর উপজেলার বেকসহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত বছরের অক্টোবর থেকে নেই প্রধান শিক্ষক। ১৮৬ জন শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য শিক্ষক রয়েছেন পাঁচজন। তাদের একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রীনা আক্তার বলেন, প্রশাসনিক কাজে বেশির ভাগ সময়ই দৌড়াদৌড়ি করতে হয়। শিক্ষকও সংকট রয়েছে। ফলে নানা সমস্যা হচ্ছে। 
গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত ১৩ আগস্ট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অবসরে যাওয়ার পর তাঁকে রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চালানো হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি।
গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সহকারী মনিটরিং কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ৪ বছর ধরে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে।

আরও পড়ুন

×