ঢাকা সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ পার্ক

জিপ লাইন-জায়ান্ট সুইংয়ে বাড়ছে পর্যটক

জিপ লাইন-জায়ান্ট সুইংয়ে বাড়ছে পর্যটক
×

ছবি: সমকাল

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৪৮

সবুজ পাহাড়-আঁকাবাঁকা উঁচু-নিচু পথরেখা-গুহা আর ঝরনা মিলিয়ে খাগড়াছড়ি এখন দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন জনপদ। বিশেষ করে বিখ্যাত পর্যটন স্পট সাজেকে পর্যটকদের আগমন বাড়ায় খাগড়াছড়িতেও গড়ে উঠেছে বেশকিছু বিনোদনকেন্দ্র। সম্প্রতি জেলা শহর¬ সংলগ্ন জেলা পরিষদ পার্কে জিপ লাইন এবং জায়ান্ট সুইং স্থাপনের ফলেও ভিড় বেড়েছে পর্যটকদের।

এসব রাইড উপভোগ করতে প্রতিদিন পার্কে ভিড় করছেন স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা। বিশেষ করে অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় তরুণ-তরুণী, দুরন্ত শিশু-কিশোরসহ মাঝবয়সী মানুষদের মধ্যেও সাড়া জাগাচ্ছে জিপ লাইন। গত ১৩ আগস্ট জিপ লাইন ও জায়ান্ট সুইং রাইড দুটি চালু করা হয়। এটি চালু হওয়ার পর তরুণ-তরুণী, পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান করে নিয়েছে জেলা পরিষদ পার্ক। অনেকে শুধু নতুন এই রাইড উপভোগ করতে জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কে আসছেন।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, খাগড়াছড়িতে ঘুরতে আসা পর্যটকদের বড় একটি অংশ আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র, মায়ুং কপাল (হাতিমাথা পাহাড়), রিছাং ঝরনা, দীঘিনালার তৈদুছড়া ঝরনা, মাটিরাঙা শতবর্ষী বটতলা, রামগড় চা বাগান, মানিকছড়ি মংরাজ বাড়ি, জেলা শহরের শতবর্ষী য়ংড বিহার, ঠান্ডাছড়া, ধর্মপুর বন বিহার, ভাইবোনছড়া মায়াবিনী লেকসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে বেড়াতে যান। নতুন রাইড যোগ হওয়ায় পর্যটকদের আগ্রহ বেড়েছে জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কেও।

খাগড়াছড়িতে বেড়াতে আসা ব্যবসায়ী মো. ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, দেশের বাইরে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে জিপ লাইন এবং কেবল কার বেশ জনপ্রিয়। অন্যান্য রাইডের চেয়ে এখানে আয়ও বেশি। এ ছাড়া শিশুদের জন্য পৃথক একটি কিডস জোন থাকায় জেলা পরিষদ পার্ক পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় উদ্যোক্তা মমতা ত্রিপুরা বলেন, জেলা পরিষদ পার্কে নতুন রাইড যোগ হওয়ায় পার্কে এসে আনন্দ করার সুযোগ বেড়েছে। বিশেষ করে জিপ লাইন ও জায়ান্ট সুইং চালু হওয়াটা খুব ভালো উদ্যোগ। এসব রাইডে চড়ার অভিজ্ঞতা খুব ভালো লেগেছে। খাগড়াছড়িতে এমন রাইড উপভোগ করতে পারছি, এটা সত্যি আনন্দের।

জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কের জিপ লাইনের সুপারভাইজার সাখাওয়াত হোসেন জানান, ‘জিপ লাইন’ সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চালু থাকে। এটির জনপ্রতি ফি ১০০ টাকা এবং ‘জায়ান্ট সুইং’-এর জনপ্রতি ফি ৭০ টাকা। চালুর পর থেকে পর্যটকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী মানুষ রাইডটি উপভোগ করতে আসছেন।

পার্কের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কান্তি ত্রিপুরা জানান, ট্যুরিজমের জন্য এখন অফ পিক আওয়ার। কিন্তু গত মাসের মাঝামাঝিতে ‘জিপ লাইন’ এবং ‘জায়ান্ট সুইং’ চালুর পর ব্যাপক দর্শনার্থী বেড়েছে। বেড়েছে আয়ও। পিক আওয়ারে পার্কের আয় প্রত্যাশিতভাবে আরও বাড়বে।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য এমএন আবছার বলেন, খাগড়াছড়ির পর্যটনকে আরও এগিয়ে নিতে হলে আমাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি পর্যটকদের বিনোদনের সুযোগও বাড়াতে হবে। জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কে জিপ লাইন ও জায়েন্ট সুইং যুক্ত হওয়ায় নতুন আকর্ষণ তৈরি হয়েছে এবং পর্যটকদের কাছ থেকেও ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তিনি জানান, পার্কে শিশুদের জন্য আরও আধুনিক ও নিরাপদ রাইড তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য ছোট ছোট কটেজ, বসার স্থান ও বিনোদনের আলাদা স্পট তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। 

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহফুজ জানায়, পর্যটকদের জন্য রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা তৈরি এবং শিশুদের বিনোদনের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন এসব সুবিধা চালু করা হয়েছে। এতে দর্শনার্থীরা রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন।

সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই মারমা বলেন, খাগড়াছড়ির পর্যটন সম্ভাবনা অনেক বড়। পাহাড়, ঝরনা, লেক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন খাতকে আরও আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা হবে। এ জন্য নতুন নতুন রাইড ও বিনোদনের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার দিকেও নজর দেওয়া হবে। স্থানীয় জনগণ যেন পর্যটন থেকে অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হন, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইঁয়া বলেন, পাহাড়ে পর্যটনশিল্পের বিকাশ হলে বেকারত্ব কমার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠলে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আগমন বাড়বে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়বে এবং মানুষের আয়ের নতুন পথ তৈরি হবে। পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারলে খাগড়াছড়িকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন নগরী হিসেবে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

আরও পড়ুন

×