আওয়ামী লীগ নিয়ে প্রশ্ন করলে আমরা বিব্রতবোধ করি: শাহে আলম
শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের পুকুরে পোনা অবমুক্তকরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম -সমকাল
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:৫১
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিব্রতবোধ করেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। শুক্রবার বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের পুকুরে পোনা অবমুক্তকরণ শেষে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেছেন।
আওয়ামী লীগ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কিনা, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই নির্বাচনে যে কেউ অংশগ্রহণ করতে পারে। গতকালও (শুক্রবার) আমাকে একজন প্রশ্ন করেছিলেন, আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিয়ে যারা প্রশ্ন করেন, আওয়ামী লীগ নিয়ে তো এই মুহূর্তে প্রশ্ন করা ঠিক না, উচিতও না। কারণ আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন। নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনকে নিয়ে আমাদের পর্যায়ে প্রশ্ন করলে আমরা বিব্রতবোধ করি।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না জানিয়ে এ সময় এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না। তবে স্থানীয়ভাবে বিএনপি-সমর্থিত নির্দিষ্ট প্রার্থী থাকবে।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন সংশোধন করা হচ্ছে। সংশোধিত আইনে আগের মতো দল থেকে মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ধানের শীষের মতো জাতীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না। নির্বাচন হবে দলনিরপেক্ষভাবে এবং সাধারণ প্রতীকে।
মীর শাহে আলম বলেন, বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী–উপজেলা বিএনপি প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে সমর্থিত প্রার্থী রাখার চেষ্টা করবে। এ জন্য স্থানীয় বিএনপি সংবাদ সম্মেলন বা কর্মী সভার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ইউনিয়নে দলের সমর্থিত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারবে।
তিনি বলেন, এটি দলীয় প্রার্থী বা দলীয় মনোনয়ন নয়, বরং দলীয় সমর্থন। দলকে মাঠপর্যায়ে সুসংগঠিত রাখা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে সর্বোচ্চ একজন প্রার্থী রাখার চেষ্টা করা হবে।
কোনো ইউনিয়নে একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকলে স্থানীয় বিএনপি আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করবে বলেও জানান তিনি। একজনকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের সুযোগ দিয়ে অন্যজনকে অন্য কোনোভাবে দলের কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখার চেষ্টা করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এরপরও কোনো ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী থেকে গেলে এবং কেউ দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বগুড়া জেলা বিএনপি ও উপজেলা বিএনপি যৌথভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত দিতে পারবে।
অনুষ্ঠানে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউর রহমান, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওহাব, ওসি শাহীনুজ্জামানসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।