ঢাকা শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবার কলেজে কনসার্ট বন্ধের দাবি কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের

‘কাটা গায়ে নুনের ছিটা’ উল্লেখ করে স্মারকলিপি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবার কলেজে কনসার্ট বন্ধের দাবি কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের
×

কনসার্ট বন্ধের দাবিতে শুক্রবার রাতে সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুবের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:০৮ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:২৭

সম্প্রতি ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এর প্রদর্শনী বন্ধ এবং জেলা পুলিশ লাইনসে কনসার্টে বাধা দেওয়ার পর এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ উপলক্ষে অনুষ্ঠিতব্য কনসার্ট বন্ধের দাবি জানিয়েছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজের কাছে পৃথক স্মারকলিপি দিয়ে কনসার্টটি বন্ধের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঐতিহাসিকভাবে ইসলাম, ইলম, আলেম ওলেমা ও ধর্মীয় মূল্যবোধে সমৃদ্ধ এক জনপদ। এ জেলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জনসাধারণের ধর্মীয় অনুভূতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এমন একটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে ১৪ সেপ্টেম্বর নবীনবরণ উপলক্ষে গানের কনসার্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আমরা জেনেছি।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নবীনদের বরণ অবশ্যই আনন্দঘন ও উৎসবমুখর হতে পারে। তবে সেই আয়োজন যেন শিক্ষার পরিবেশ, সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা এবং এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, এ বিষযটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া অতীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন কনসার্ট ও গানের অনুষ্ঠানে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি ও দুর্ঘটনা ঘটেছে। ফলে এ ধরনের আয়োজনকে ঘিরে জনমনে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, তা কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য ফুজায়েল আহমেদ খান বলেন, আমাদের মূল বিষয়গুলো স্মারকলিপিতে তুলে ধরেছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো বলেছেনই, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা বন্ধের মতোই। স্বরাষ্টমন্ত্রী যে বিষয়ে কথাটা বলেছিলেন সেখানে ৩০ জন ছাত্র আহত হয়েছিল- এই কনসার্টের কারণেই। এক মাসও যায়নি, এর মধ্যেই আবার কনসার্ট করতে চাচ্ছে। তাহলে বিষয়টা এমন হয়ে গেল না- ‌‘কাটা গায়ে নুনের ছিটা’ দিচ্ছে! তারা তো এগুলো দেখেছে, তারপরও কীভাবে এগুলো করে?

তিনি বলেন, ৮ থেকে ৯ বছর আগেই এই নবীনবরণ কনসার্ট বন্ধ হয়েছিল। এটি বন্ধের মূল কারণ ছিল- নাচগানের মধ্যে এক মেয়ে ইভটিজিংয়ের শিকার হয়েছিল। যে কারণে কনসার্ট বন্ধ হয়েছিল তারা কি সেটা আবার চালু করতে চায়? তারা (কলেজ কর্তৃপক্ষ) কি চায় ছাত্রীরা সেখানে ইভটিজিংয়ের শিকার হোক?

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম ওবায়াদুল হক বলেন, উনারা সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসকের কাছে গেছেন- এটা আমি অফিসিয়ালি অবগত নই। উনারা আমাদের কাছে আসেননি। যদি আমাদের জানান এবং পরামর্শ দেন তাহলে আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেব। আর এটা ওভাবে কনসার্ট না, আমরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠন করব। আমাদের তিনটা কর্মসূচি আছে;  নবীনবরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৃক্ষরোপণ।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে জেলা শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এর প্রদশর্নী কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের বাধার কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এ নিয়ে সারাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়।

এরপর ১৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির আগমন উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে গানবাজনা নিয়ে পাশের জামিয়া দারুল আরকাম আল ইসরামিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ৩০ জন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আহত হয়। এছাড়া পুলিশ সদস্যরাও আহত হন। ওই ঘটনার  রাতেই জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজের উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জেলা পুলিশ সুপারের দুঃখ প্রকাশের মাধ্যমে এবং জড়িতদের শাস্তির আশ্বাসে ঘটনাটির তাৎক্ষণিক সমাধান হয়।

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘একটি অনুষ্ঠানে আছি, পরে কথা বলব।’ 

আরও পড়ুন

×