ঈশ্বরদীর পদ্মায় বাড়ছে পানি
ছবি: সমকাল
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬:৩৯
পাবনার ঈশ্বরদীর পদ্মায় হু হু করে বাড়ছে পানি। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার মাত্র ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ফসলের জমিতে পানি ঢুকে পড়ায় শত শত গ্রামবাসী আতঙ্কে রয়েছেন। নদীভাঙনেও নির্ঘুম রাত কাটছে পাড়ের বাসিন্দাদের।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পাকশী ও লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নে ৫ হেক্টর মুলা ও ৫ হেক্টর গাজরের ক্ষেত এবং আওতাপাড়া গ্রামের পেঁপে ও কলাবাগানসহ ৭৫ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষেতে বন্যার পানি উঠেছে। উপজেলার সাঁড়া ও পাকশী এলাকায় পদ্মার বাঁধ উপচে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বন্যার পানি সাঁড়া ও সাহাপুরের বিভিন্ন গ্রামে ঢুকে পড়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসী।
বিশেষ করে সাঁড়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীর পাড়সংলগ্ন ইসলামপাড়া, সাঁড়া ঘাট এলাকাসহ কয়েকটি গ্রামের উঁচু রাস্তা অতিক্রম করে লোকালয়ে পানি ঢুকেছে। নদীর বিভিন্ন প্রান্তে ভাঙনের ফলে পাড়ের গ্রামবাসী আতঙ্কে রয়েছেন। কোথাও কোথাও বসতবাড়ির আঙিনাও নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। বাঁশের খুঁটি ও বেড়া দিয়ে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছেন স্থানীয়রা।
সাঁড়ার আরামবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা জিল্লুর রহমান জানান, পদ্মার পানি বাড়ার কারণে আরামবাড়িয়া, কোমরপুর, বাদলীর মোড়, মাজদিয়া ও ইসলামপাড়া গ্রামের মানুষের রাত কাটছে নির্ঘুম। কখন নদীতে বাড়িঘর বিলীন হয়ে যায়, সেই আশঙ্কায় এসব গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ রাত জেগে নদীর পাড়ে বসে থাকছেন।
সাহাপুর গ্রামের কৃষক আমিরুল সরদার বলেন, বন্যার পানি লোকালয়ে এসে পড়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে কৃষক ও গ্রামবাসীর।
উজানের ঢল, বৃষ্টিপাত ও উত্তাল পদ্মার পানির প্রবাহ গত কয়েক দিন ধরে বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। কখনো কিছুটা কম আবার কখনো বেশি হচ্ছে নদীর পানি। গতকাল রোববার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহমেদ জানান, পাকশীর পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে ১৩ দশমিক ০৫ মিটার উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হওয়ার রেকর্ড করা হয়েছে। এই পয়েন্টে বিপৎসীমার পরিমাপ ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। ফলে বিপৎসীমার মাত্র ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
তিনি জানান, এর আগে গত বৃহস্পতিবার পদ্মার পানি ১২ দশমিক ৮৮ মিটার, শুক্রবার ১৩ দশমিক ০২ মিটার, শনিবার ১৩ দশমিক ০৬ মিটার এবং রোববার ১৩ দশমিক ০৫ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হওয়ার রেকর্ড করা হয়েছে।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবদুল মমিন জানান, উপজেলার সাহাপুর, পাকশী, সাঁড়া ও লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নে ফসলের জমিতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। পানি আরও কিছুটা বৃদ্ধি পেলে এসব এলাকার আবাদ করা শীতকালীন সবজিসহ আগাম জাতের শাকসবজি ও ফল ফসলের মাঠে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেহাব উদ্দিন বলেন, উপজেলার নিচু এলাকা ইতোমধ্যে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ‘ইউনিয়ন দুর্যোগ কমিটি’ হালনাগাদ করা হচ্ছে, যাতে যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসাম মোহাম্মদ সোয়াইব বলেন, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এবং উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঈশ্বরদীর বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।